‘পলিসি সামিট ২০২৬’: নতুন বাংলাদেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামীর ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কর হ্রাস এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে যুগান্তকারী সংস্কারের অঙ্গীকার
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত ৩১ দফা নীতি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এই রূপরেখা পেশ করেন। ঘোষণাপত্রে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, কর কাঠামো সংস্কার, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থাকে ‘ফাঁপা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সন্ধিক্ষণে দেশ পুনর্গঠনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, বর্তমানে প্রচলিত ট্যাক্স ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ এবং আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানাগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালুর পাশাপাশি এর ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে দলটির প্রস্তাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্নাতক শেষে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে মাসিক ১০ হাজার টাকা শিক্ষাঋণ এবং প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১০০ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজ একীভূত করে বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আইসিটি খাতে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণার মাধ্যমে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং আইসিটি রফতানি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়েছে। সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে পেশা নয় বরং কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তারা রাষ্ট্রীয় কোনো অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবে না। সম্মেলনে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সামিটে আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনরা জামায়াতের এই গঠনমূলক রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রচেষ্টাকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























