ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা শুরু ও ভোটযুদ্ধে প্রচারণার নতুন চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রার্থীদের গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরগরম হয়ে উঠবে রাজপথ। তবে নির্বাচনের এই প্রচারকালকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করাকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী কাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের চূড়ান্ত প্রচারণা শুরু করবেন। তবে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এবং লক্ষ্মীপুর সদরেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক করে তুলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা যে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়তে পারে।

নির্বাচনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ সদস্যের পাশাপাশি ৫ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি আনসার সদস্য এবং প্রায় এক লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। বিজিবি, র‍্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে যে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং মহানগর কমিশনারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে করে যেকোনও মূল্যে সংঘাত এড়ানো যায়। এবার বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার হিসেবে ড্রোন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী ডেভিল হান্ট ফেজ টু শীর্ষক বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলো মাঠে কাজ করবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকলে সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব। পুলিশ সদর দফতর আশ্বস্ত করেছে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি বজায় রাখতে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা বদ্ধপরিকর।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা শুরু ও ভোটযুদ্ধে প্রচারণার নতুন চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১২:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রার্থীদের গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরগরম হয়ে উঠবে রাজপথ। তবে নির্বাচনের এই প্রচারকালকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করাকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী কাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের চূড়ান্ত প্রচারণা শুরু করবেন। তবে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এবং লক্ষ্মীপুর সদরেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক করে তুলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা যে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়তে পারে।

নির্বাচনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ সদস্যের পাশাপাশি ৫ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি আনসার সদস্য এবং প্রায় এক লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। বিজিবি, র‍্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে যে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং মহানগর কমিশনারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে করে যেকোনও মূল্যে সংঘাত এড়ানো যায়। এবার বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার হিসেবে ড্রোন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী ডেভিল হান্ট ফেজ টু শীর্ষক বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলো মাঠে কাজ করবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকলে সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব। পুলিশ সদর দফতর আশ্বস্ত করেছে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি বজায় রাখতে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা বদ্ধপরিকর।