ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রইল অর্ধশতাধিক আসনে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

## জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ: অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। দলের জাতীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক সংসদীয় আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এই বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এটি দলীয় ঐক্য এবং ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ত্যাগী হিসেবে পরিচিত অনেক নেতা এবার দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এই মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলের ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কৌশলগত কারণে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে অসন্তোষ সৃষ্টি হলেও, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য দল থেকে চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিছু আসনে প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ালেও, অনেকেই তা অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি সমর্থক ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী, নওগাঁ-১ আসনে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাক্তার সালেক চৌধুরী এবং নওগাঁ-৬ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর কবির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চাঁদপুর-৪ আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যাকে ইতোমধ্যে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এক, দুই ও তিন আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে দলের সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই বিষয়ে দল এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফি‌রোজ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নীলফামারী-৪ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ আরফান সরকার রানা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মামুন অর রশিদ, দুজনই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

কুমিল্লা-২ আসনে খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিন খান, কুমিল্লা-৭ আসনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এবং কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নাসিরুল হক সাবু, হবিগঞ্জ-১ আসনে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ সুজাত মিয়া এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কুষ্টিয়া-১ আসনে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি তোজাম্মেল হক তোজা, যিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কৃষকদল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তিনি প্রার্থী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান আতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নিরব এবং ঢাকা-১৪ আসনে দারুসসালাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজু, যাকে ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যদিও তিনি বর্তমানে দলীয় কোনো পদে নেই। দিনাজপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে দলের পার্বতীপুর উপজেলা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এজেডএম রেজওয়ানুল হক এবং একই উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকারিয়া বাচ্চু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। পিরোজপুর-২ আসনে মাহমুদ হোসেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে জেলা বিএনপি অর্থবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন তাপস দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নোয়াখালী-২ আসনে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান এবং নোয়াখালী-৬ আসনে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভির উদ্দিন রাজীব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শেরপুর-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং শেরপুর-৩ আসনে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টাঙ্গাইল জেলার চারটি আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। টাঙ্গাইল-১ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ আসনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল হালিম মিয়া এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রার্থী হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো দল থেকে কোনো বহিষ্কারের খবর পাওয়া যায়নি।

পাবনা-৩ আসনে সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য মোমিন আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকি শুভ এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ-১-এ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ এ আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩-এ সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ এ সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং শাহ্ আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রইল অর্ধশতাধিক আসনে

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

## জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ: অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। দলের জাতীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক সংসদীয় আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এই বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এটি দলীয় ঐক্য এবং ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ত্যাগী হিসেবে পরিচিত অনেক নেতা এবার দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এই মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলের ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কৌশলগত কারণে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে অসন্তোষ সৃষ্টি হলেও, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য দল থেকে চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিছু আসনে প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ালেও, অনেকেই তা অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি সমর্থক ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী, নওগাঁ-১ আসনে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাক্তার সালেক চৌধুরী এবং নওগাঁ-৬ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর কবির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চাঁদপুর-৪ আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যাকে ইতোমধ্যে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এক, দুই ও তিন আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে দলের সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই বিষয়ে দল এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফি‌রোজ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নীলফামারী-৪ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ আরফান সরকার রানা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মামুন অর রশিদ, দুজনই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

কুমিল্লা-২ আসনে খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিন খান, কুমিল্লা-৭ আসনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এবং কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নাসিরুল হক সাবু, হবিগঞ্জ-১ আসনে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ সুজাত মিয়া এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কুষ্টিয়া-১ আসনে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি তোজাম্মেল হক তোজা, যিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কৃষকদল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তিনি প্রার্থী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান আতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নিরব এবং ঢাকা-১৪ আসনে দারুসসালাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজু, যাকে ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যদিও তিনি বর্তমানে দলীয় কোনো পদে নেই। দিনাজপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে দলের পার্বতীপুর উপজেলা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এজেডএম রেজওয়ানুল হক এবং একই উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকারিয়া বাচ্চু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। পিরোজপুর-২ আসনে মাহমুদ হোসেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে জেলা বিএনপি অর্থবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন তাপস দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নোয়াখালী-২ আসনে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান এবং নোয়াখালী-৬ আসনে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভির উদ্দিন রাজীব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শেরপুর-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং শেরপুর-৩ আসনে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টাঙ্গাইল জেলার চারটি আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। টাঙ্গাইল-১ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ আসনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল হালিম মিয়া এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রার্থী হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো দল থেকে কোনো বহিষ্কারের খবর পাওয়া যায়নি।

পাবনা-৩ আসনে সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য মোমিন আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকি শুভ এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ-১-এ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ এ আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩-এ সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ এ সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং শাহ্ আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।