ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

গণভোটের তীব্র বিরোধিতা, জাতীয় পার্টির ‘না’ ভোটের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, এই গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রক্রিয়া চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে জাতীয় পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতে সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হবে। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় পার্টি নিজেরা ‘না’ ভোট দেবে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সকল নাগরিককে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

জিএম কাদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিল এবং সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের মতো একটি জটিল বিষয়কে গণভোটের মাধ্যমে উপস্থাপন করে তারা তাদের শপথ ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, এত জটিল একটি বিষয়কে সাধারণ মানুষের সামনে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করা অবাস্তব। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অযৌক্তিক এবং অদ্ভুত। যারা এই প্রস্তাবটি এনেছেন, তারা এর গভীরতা আদৌ বুঝেছেন কিনা, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত কোনো ক্ষমতা না দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। স্বৈরাচার রোধের নামে যদি এমন ক্ষমতাহীন সরকার তৈরি করা হয়, তবে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

এর আগে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলটির পক্ষ থেকে ১৯৬টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তাদের ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, যদিও আরও দুজন প্রার্থী এই বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে নির্বাচন করছেন। এছাড়া শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ও ৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় একাধিক আলোচিত মামলার আসামি রয়েছেন। এদের মধ্যে বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু, নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী এএনএম রফিকুল আলম সেলিম এবং শেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও, পলাতক আসামিদেরও প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দলটি। এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরিফা কাদের, এমরান হোসেন মিয়া, মইনুল রাব্বি চৌধুরী এবং রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

গণভোটের তীব্র বিরোধিতা, জাতীয় পার্টির ‘না’ ভোটের আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, এই গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রক্রিয়া চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে জাতীয় পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতে সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হবে। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় পার্টি নিজেরা ‘না’ ভোট দেবে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সকল নাগরিককে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

জিএম কাদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিল এবং সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের মতো একটি জটিল বিষয়কে গণভোটের মাধ্যমে উপস্থাপন করে তারা তাদের শপথ ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, এত জটিল একটি বিষয়কে সাধারণ মানুষের সামনে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করা অবাস্তব। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অযৌক্তিক এবং অদ্ভুত। যারা এই প্রস্তাবটি এনেছেন, তারা এর গভীরতা আদৌ বুঝেছেন কিনা, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত কোনো ক্ষমতা না দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। স্বৈরাচার রোধের নামে যদি এমন ক্ষমতাহীন সরকার তৈরি করা হয়, তবে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

এর আগে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলটির পক্ষ থেকে ১৯৬টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তাদের ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, যদিও আরও দুজন প্রার্থী এই বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে নির্বাচন করছেন। এছাড়া শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ও ৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় একাধিক আলোচিত মামলার আসামি রয়েছেন। এদের মধ্যে বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু, নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী এএনএম রফিকুল আলম সেলিম এবং শেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও, পলাতক আসামিদেরও প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দলটি। এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরিফা কাদের, এমরান হোসেন মিয়া, মইনুল রাব্বি চৌধুরী এবং রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।