ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএমডিসি শোকজ: ডা. খালিদুজ্জামানের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তাকে শোকজ করেছে। তিনি নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএমডিসি’র অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. খালিদুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি বিএমডিসি স্বীকৃত একজন চিকিৎসক।

ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, বিএমডিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং এর উত্তর দেব।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৮ বছরে আমার চিকিৎসাগত পেশায় কোনো সমস্যা হয়নি। আমি এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত আছি, যেখানে জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) প্রতি তিন বছর অন্তর আমার সিভি যাচাই করে। হঠাৎ করে এখন কেন এই প্রশ্ন উঠছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। আমার জনপ্রিয়তা এখানে অনেক বেশি, আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদে যাব।”

এই সংসদ প্রার্থী আরও বলেন, এটি একটি সামান্য বিষয় এবং তারা এর জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “আমি চাই না ভবিষ্যতে সংসদে এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা, অথবা গায়ক-নায়করা প্রবেশ করুক। তবে, কিছু তথ্য উঠে আসছে যে, অনেকে এসএসসিতেও দুই-তিনবার ফেল করেছেন।” তিনি সাংবাদিক ও শিক্ষকদের নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, চিকিৎসা পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএমডিসির এমন পদক্ষেপ দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু চিকিৎসা বিষয়ের কোর্স বাংলাদেশে নেই এবং বিএমডিসিতে সেগুলোর মূল্যায়ন বা সনদ দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। ডা. ওয়ালিউল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, “যেসব বিষয়ে দেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কিন্তু কোর্স নেই, সেখানে কোনো চিকিৎসক নিজের চেষ্টায় বিদেশে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করলে, আমরা যারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করি, তারাই যদি বাধার সৃষ্টি করি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?” তিনি ডা. খালিদুজ্জামানের ঘটনাকে এমনই একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এনডিএফ-এর এই নেতা আরও বলেন, যে বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রির ব্যবস্থা দেশে নেই, সেখানে একজন ডাক্তার নিজ উদ্যোগে বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এসে কাজ শুরু করলে, বিএমডিসির উচিত ছিল তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি ফর্মুলা তৈরি করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কাজকে বাধাগ্রস্ত করা এবং পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডা. ওয়ালিউল্লাহ আরও বলেন, জেসিআই আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও পেশাদারদের স্বীকৃতি প্রদানকারী একটি সংস্থা। বাংলাদেশে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জেসিআইয়ের স্বীকৃতি রয়েছে, যার মধ্যে এভারকেয়ার অন্যতম। জেসিআই কর্তৃক ইনফার্টিলিটিতে কনসালটেন্ট হিসেবে স্বীকৃত ডা. খালিদুজ্জামানকে বিএমডিসির পক্ষ থেকে শোকজ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ২৫ বছরে এই ধরনের মাত্র একটি বাচ্চা জন্ম লাভ করেছে, যেখানে ডা. খালিদুজ্জামানের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সেখানে এমন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ডা. খালিদুজ্জামান যখন একজন আলোচিত প্রার্থী, তখন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই চেষ্টা তার জনপ্রিয়তাকেই আরও বাড়িয়ে দেবে। যারা এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য এটি বুমেরাং হবে।

ডা. ওয়ালিউল্লাহ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার বিদেশি উচ্চতর ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন, যাদের মধ্যে একই বিষয়ের ২৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো শোকজ না থাকলেও, ডা. খালিদুজ্জামানের ক্ষেত্রে কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জাতির কাছে স্পষ্ট করা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএমডিসি শোকজ: ডা. খালিদুজ্জামানের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তাকে শোকজ করেছে। তিনি নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএমডিসি’র অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. খালিদুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি বিএমডিসি স্বীকৃত একজন চিকিৎসক।

ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, বিএমডিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং এর উত্তর দেব।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৮ বছরে আমার চিকিৎসাগত পেশায় কোনো সমস্যা হয়নি। আমি এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত আছি, যেখানে জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) প্রতি তিন বছর অন্তর আমার সিভি যাচাই করে। হঠাৎ করে এখন কেন এই প্রশ্ন উঠছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। আমার জনপ্রিয়তা এখানে অনেক বেশি, আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদে যাব।”

এই সংসদ প্রার্থী আরও বলেন, এটি একটি সামান্য বিষয় এবং তারা এর জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “আমি চাই না ভবিষ্যতে সংসদে এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা, অথবা গায়ক-নায়করা প্রবেশ করুক। তবে, কিছু তথ্য উঠে আসছে যে, অনেকে এসএসসিতেও দুই-তিনবার ফেল করেছেন।” তিনি সাংবাদিক ও শিক্ষকদের নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, চিকিৎসা পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএমডিসির এমন পদক্ষেপ দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু চিকিৎসা বিষয়ের কোর্স বাংলাদেশে নেই এবং বিএমডিসিতে সেগুলোর মূল্যায়ন বা সনদ দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। ডা. ওয়ালিউল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, “যেসব বিষয়ে দেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কিন্তু কোর্স নেই, সেখানে কোনো চিকিৎসক নিজের চেষ্টায় বিদেশে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করলে, আমরা যারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করি, তারাই যদি বাধার সৃষ্টি করি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?” তিনি ডা. খালিদুজ্জামানের ঘটনাকে এমনই একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এনডিএফ-এর এই নেতা আরও বলেন, যে বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রির ব্যবস্থা দেশে নেই, সেখানে একজন ডাক্তার নিজ উদ্যোগে বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এসে কাজ শুরু করলে, বিএমডিসির উচিত ছিল তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি ফর্মুলা তৈরি করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কাজকে বাধাগ্রস্ত করা এবং পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডা. ওয়ালিউল্লাহ আরও বলেন, জেসিআই আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও পেশাদারদের স্বীকৃতি প্রদানকারী একটি সংস্থা। বাংলাদেশে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জেসিআইয়ের স্বীকৃতি রয়েছে, যার মধ্যে এভারকেয়ার অন্যতম। জেসিআই কর্তৃক ইনফার্টিলিটিতে কনসালটেন্ট হিসেবে স্বীকৃত ডা. খালিদুজ্জামানকে বিএমডিসির পক্ষ থেকে শোকজ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ২৫ বছরে এই ধরনের মাত্র একটি বাচ্চা জন্ম লাভ করেছে, যেখানে ডা. খালিদুজ্জামানের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সেখানে এমন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ডা. খালিদুজ্জামান যখন একজন আলোচিত প্রার্থী, তখন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই চেষ্টা তার জনপ্রিয়তাকেই আরও বাড়িয়ে দেবে। যারা এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য এটি বুমেরাং হবে।

ডা. ওয়ালিউল্লাহ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার বিদেশি উচ্চতর ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন, যাদের মধ্যে একই বিষয়ের ২৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো শোকজ না থাকলেও, ডা. খালিদুজ্জামানের ক্ষেত্রে কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জাতির কাছে স্পষ্ট করা উচিত।