ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ ঋণ সুবিধা: ৩ শতাংশ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে রক্ষায় বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায়, সংকটাপন্ন জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে তাদের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবে। এই বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর সময় পাওয়া যাবে, যার মধ্যে প্রথম দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপের সামরিক সংঘাতের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে, দেশের রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সচল রাখতে এবং ব্যাংক ঋণের আদায় প্রক্রিয়া সহজ করতে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে তিন শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সময় দেড় শতাংশ এবং ঋণ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বাকি দেড় শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।

এই সুবিধা গ্রহণের পর ঋণ নিয়মিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে মূল ঋণের ওপর আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। ব্লকড হিসাবে রাখা সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদ ছাড়া কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।

সুবিধাটি নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। ব্যাংকগুলো আবেদন পাওয়ার সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে বাধ্য থাকবে।

এছাড়া, যেসব ঋণ আগে একবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ (কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট) দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ যথানিয়মে খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সত্যিই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকেও তাদের নিজস্ব শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিশেষ ঋণ সুবিধা: ৩ শতাংশ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে রক্ষায় বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায়, সংকটাপন্ন জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে তাদের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবে। এই বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর সময় পাওয়া যাবে, যার মধ্যে প্রথম দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপের সামরিক সংঘাতের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে, দেশের রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সচল রাখতে এবং ব্যাংক ঋণের আদায় প্রক্রিয়া সহজ করতে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে তিন শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সময় দেড় শতাংশ এবং ঋণ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বাকি দেড় শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।

এই সুবিধা গ্রহণের পর ঋণ নিয়মিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে মূল ঋণের ওপর আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। ব্লকড হিসাবে রাখা সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদ ছাড়া কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।

সুবিধাটি নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। ব্যাংকগুলো আবেদন পাওয়ার সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে বাধ্য থাকবে।

এছাড়া, যেসব ঋণ আগে একবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ (কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট) দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ যথানিয়মে খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সত্যিই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকেও তাদের নিজস্ব শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।