রংপুরের পীরগাছা থানা পুলিশের হেফাজত থেকে চাঞ্চল্যকর শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত আসামি নাটকীয়ভাবে পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক হওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির সুযোগে নাহিদ হাসান লিটন নামের ওই আসামি পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পালানোর সময় তার হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল এবং তিনি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করলেও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাহিদ হাসান লিটনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পীরগাছা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। লিটন রংপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিটনকে আটকের পরপরই তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। এ সময় লিটনের পরিবারের সদস্য ও বেশ কয়েকজন নারী পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ১০-১৫ জন নারী একত্রিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লিটন বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান। এলাকাবাসীর দাবি, পালানোর সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না এবং তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থাতেই ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি জানান, মাগরিবের নামাজের পর পুলিশ লিটনকে ধরে নিয়ে আসে এবং তার হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল। পরে ১০-১৫ জন নারী পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ালে এক নারী পুলিশ সদস্যের হাতে কামড় দেন। সেই সুযোগে হ্যান্ডকাফ পরিহিত ও বিবস্ত্র অবস্থায় লিটন পালিয়ে যায়।
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম আসামি পালানোর ঘটনাটি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি হ্যান্ডকাফ পরিহিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এটিকে ‘গুজব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আসামি পালিয়েছে—এটা সত্য। তবে হ্যান্ডকাফ পরিহিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।”
পুলিশের হেফাজত থেকে হত্যা মামলার একজন অভিযুক্ত আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই ঘটনা পুরো পীরগাছা উপজেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























