বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে একটি উচ্চাভিলাষী পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা রূপান্তর ঘটিয়ে টেকসই উৎকর্ষ অর্জন করা।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষাকে আধুনিকীকরণের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশমালা, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির নিজস্ব কৌশলগত পরিকল্পনা সমন্বিত করে এই পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি মূল কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— স্নাতকদের কর্মসংস্থান যোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ; বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি; ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার; শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন; গবেষণার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিকীকরণ; এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মান নিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে, গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, একটি সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যও এই কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খসড়া চূড়ান্তকরণের অংশ হিসেবে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























