ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

লিবিয়ায় জিম্মি কুমিল্লার ৬ যুবক, দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি; পরিবারে আর্তনাদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে এবং উন্নত জীবনের আশায় ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা এখন জিম্মি। তাদের মুক্তির জন্য দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। টাকা আদায়ে যুবকদের ওপর প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন, আর সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের কাছে। সন্তানদের অসহায় আর্তনাদ দেখে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা, দিন কাটছে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়।

জিম্মি হওয়া যুবকেরা হলেন—খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আট মাস আটকে রাখার পর সম্প্রতি তাদের আরও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে প্রত্যেকের জন্য ২৫ লাখ টাকা করে, মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

ছেলের ওপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় নয় মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। এরপর মানিকুলকে লিবিয়ায় নেওয়া হলেও সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একই রকম অভিযোগ করেছেন সোহেলের বাবা হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, প্রায় আট মাস আগে সামছুল আলমের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেও দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পরিবারগুলোর দাবি, দালালরা ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের চাপ দিচ্ছে। ভিডিওতে যুবকদের আর্ত-চিৎকার ও নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জিম্মি যুবকদের উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় বাস-সিএনজি দ্বন্দ্বে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা: মুখোমুখি মালিক ও শ্রমিক সংগঠন

লিবিয়ায় জিম্মি কুমিল্লার ৬ যুবক, দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি; পরিবারে আর্তনাদ

আপডেট সময় : ০৬:১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে এবং উন্নত জীবনের আশায় ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা এখন জিম্মি। তাদের মুক্তির জন্য দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। টাকা আদায়ে যুবকদের ওপর প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন, আর সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের কাছে। সন্তানদের অসহায় আর্তনাদ দেখে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা, দিন কাটছে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়।

জিম্মি হওয়া যুবকেরা হলেন—খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আট মাস আটকে রাখার পর সম্প্রতি তাদের আরও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে প্রত্যেকের জন্য ২৫ লাখ টাকা করে, মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

ছেলের ওপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় নয় মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। এরপর মানিকুলকে লিবিয়ায় নেওয়া হলেও সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একই রকম অভিযোগ করেছেন সোহেলের বাবা হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, প্রায় আট মাস আগে সামছুল আলমের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সেও দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পরিবারগুলোর দাবি, দালালরা ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের চাপ দিচ্ছে। ভিডিওতে যুবকদের আর্ত-চিৎকার ও নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জিম্মি যুবকদের উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।