জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাগেরহাটের মোংলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনা বর্তমান সরকারের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের পর দেশে আবারও গুমের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের শফিউল্লাহ সড়কে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়, যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। এই ঘটনায় উচ্চ আদালত মিরাজ শেখকে ১৫ দিনের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনার প্রসঙ্গে টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল এবং বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যে রাজনৈতিক দল অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা বলে, সেই দলই এখন গুম কমিশন গঠনের বিরোধিতা করছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, দেশে এখনও পূর্ববর্তী শাসনামলের প্রশাসনিক কাঠামোই বহাল রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। জনগণ যে সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তা এখনো অধরা রয়ে গেছে।
মোংলার গুমের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, তাদের দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা।
রিপোর্টারের নাম 
























