ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: যুক্তিতর্ক শেষ, যে কোনো দিন রায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় মামলাটির রায় ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ করেন। এর আগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই মামলার আইনি যুক্তি ও তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিচারের এই পর্যায়ে মামলার সত্যতা প্রমাণের জন্য মোট ২৪ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

আলোচিত এই মামলায় মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। মামলার বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামও রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চূড়ান্ত দিনে আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ভুক্তভোগীদের মরদেহ একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় প্রাণ হারান সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বিকেল ৩টার দিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। মামলার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: যুক্তিতর্ক শেষ, যে কোনো দিন রায়

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় মামলাটির রায় ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ করেন। এর আগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই মামলার আইনি যুক্তি ও তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিচারের এই পর্যায়ে মামলার সত্যতা প্রমাণের জন্য মোট ২৪ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

আলোচিত এই মামলায় মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। মামলার বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামও রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চূড়ান্ত দিনে আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ভুক্তভোগীদের মরদেহ একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় প্রাণ হারান সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বিকেল ৩টার দিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। মামলার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী।