ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২৬ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সরকারি ব্যয়ের ২৬টি সুনির্দিষ্ট খাতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মে) অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

নতুন এই নির্দেশনায় প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তকরণ, তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ী পদ সংরক্ষণ এবং পদের বেতনক্রম বা পদবি পরিবর্তনের মতো যেকোনো প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামোতে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করা বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাগবে।

শ্রমিক নিয়োগ ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ, দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারী সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাজেট ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বাজেটে বরাদ্দ নেই এমন কোনো খাতে অর্থ খরচের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে। বিশেষ করে রাজস্ব খাত থেকে মূলধন খাতে বা মূলধন খাত থেকে রাজস্ব খাতে অর্থ স্থানান্তরের (পুনঃউপযোজন) ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বেতন ও ভাতা খাত থেকে অন্য কোনো খাতে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো কর্মকর্তাকে এক অর্থবছরে একাধিকবার বা ১৫ হাজার টাকার বেশি সম্মানী দিতে হলে কেন্দ্রীয় অনুমোদন লাগবে। পাশাপাশি পেনশন, ভবিষ্য তহবিল, ভ্রমণ ভাতা এবং চাকরির শর্তাবলি পরিবর্তনের বিষয়গুলো অর্থ বিভাগ থেকে নিষ্পত্তি করতে হবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম উত্তোলন কিংবা ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্টেশনারি বা মনিহারি দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।

বৈদেশিক সফরের ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে নির্ধারিত ডলারের সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করতে চাইলে তা অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য আপ্যায়ন ব্যয় ৮০০ ডলার এবং অন্যান্য সেবার জন্য ৩০০ ডলারের বেশি হলে অনুমতি লাগবে। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যও পৃথক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা আন্তর্জাতিক চুক্তি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, বিনিয়োগ ও শুল্কনীতি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি—যেখানে আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে, তা অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত করা যাবে না। এছাড়া সরকারি গ্যারান্টি প্রদান, ঋণ সংগ্রহ এবং ৫ লাখ টাকার বেশি অনাদেয় ক্ষতি অবলোপনের ক্ষেত্রেও একই বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২৬ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক

আপডেট সময় : ০৮:০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সরকারি ব্যয়ের ২৬টি সুনির্দিষ্ট খাতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মে) অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

নতুন এই নির্দেশনায় প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তকরণ, তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ী পদ সংরক্ষণ এবং পদের বেতনক্রম বা পদবি পরিবর্তনের মতো যেকোনো প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামোতে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করা বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাগবে।

শ্রমিক নিয়োগ ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ, দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারী সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাজেট ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বাজেটে বরাদ্দ নেই এমন কোনো খাতে অর্থ খরচের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে। বিশেষ করে রাজস্ব খাত থেকে মূলধন খাতে বা মূলধন খাত থেকে রাজস্ব খাতে অর্থ স্থানান্তরের (পুনঃউপযোজন) ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বেতন ও ভাতা খাত থেকে অন্য কোনো খাতে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো কর্মকর্তাকে এক অর্থবছরে একাধিকবার বা ১৫ হাজার টাকার বেশি সম্মানী দিতে হলে কেন্দ্রীয় অনুমোদন লাগবে। পাশাপাশি পেনশন, ভবিষ্য তহবিল, ভ্রমণ ভাতা এবং চাকরির শর্তাবলি পরিবর্তনের বিষয়গুলো অর্থ বিভাগ থেকে নিষ্পত্তি করতে হবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম উত্তোলন কিংবা ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্টেশনারি বা মনিহারি দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।

বৈদেশিক সফরের ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে নির্ধারিত ডলারের সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করতে চাইলে তা অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য আপ্যায়ন ব্যয় ৮০০ ডলার এবং অন্যান্য সেবার জন্য ৩০০ ডলারের বেশি হলে অনুমতি লাগবে। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যও পৃথক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা আন্তর্জাতিক চুক্তি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, বিনিয়োগ ও শুল্কনীতি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি—যেখানে আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে, তা অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত করা যাবে না। এছাড়া সরকারি গ্যারান্টি প্রদান, ঋণ সংগ্রহ এবং ৫ লাখ টাকার বেশি অনাদেয় ক্ষতি অবলোপনের ক্ষেত্রেও একই বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।