বরিশালের মেঘনা নদীতে গত ১০ জানুয়ারি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া তিন জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ও দুপুরে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকা থেকে পৃথকভাবে লাশগুলো উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই উদ্ধার হওয়া লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনায় এখনো একজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারের জন্য স্বজনরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, হিজলা উপজেলার পালপাড়া এলাকার সাগর মীরের ছেলে শাহীন মীর (২০), একই এলাকার জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে নয়ন বেপারী (১৯) এবং বাথুয়া গ্রামের কাদের সিকদারের ছেলে আরিফ সিকদার (১৯)। নিখোঁজ হওয়া জেলে হলেন হিজলা উপজেলার পালপাড়া গ্রামের মনির সিকদারের ছেলে শাহীন সিকদার (১৮)।
হিজলার কালিগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, গত ১০ জানুয়ারি পাঁচ তরুণ জেলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মেঘনা নদীর লাল বয়া এলাকায় মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার পর তারা নৌকাতেই ঘুমিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে নৌকার ইঞ্জিনের পাখার পাশ দিয়ে পানি ঢুকে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে তারা টের পেয়ে সাঁতরে তীরে আসার চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে শামীম ও দিদার নামের দুজন সাঁতরে মেহেন্দিগঞ্জের মীরের খাল এলাকায় পৌঁছলে একটি নৌকা তাদের উদ্ধার করে। তবে, ঘন কুয়াশার কারণে বাকিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে মেঘনা নদীতে ভেসে থাকা অবস্থায় শাহীন মীর ও আরিফ সিকদারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এনামুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে মেঘনা নদীর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মীরা বাজার এলাকায় নয়ন বেপারীর ভাসমান মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে স্বজনরা এসে লাশটি শনাক্ত করেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় লাশটিও ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ থাকা শাহীন সিকদারকে উদ্ধারের জন্য তার স্বজনরা মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























