মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার যেন মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে বা বিনা বিচারে হত্যা করতে না পারে, তা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করবে। বুধবার সকালে বগুড়া সদরের ফাপোর পশ্চিমপাড়ায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতেই আমরা মাঠে নেমেছি।
বীর প্রতীক ফারুক ই আজম তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের সংগ্রামকে ‘নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি, কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে তরুণদের খালি হাতে রাস্তায় নেমে আসার সংগ্রাম। বাবার বন্দুকের সামনে ছেলে বুক পেতে দিয়েছে – পৃথিবীতে খুব কম জাতি আছে যারা এমন বিরল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে এই অর্জনকে নিরঙ্কুশ করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন সম্পন্ন হলেই এই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে এবং এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই, সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।
এই প্রক্রিয়া সংবিধানে যুক্ত হলে জাতির যেকোনো সংকটে জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই, কারণ রাষ্ট্র জনগণের। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার যে সুযোগ এসেছে, তা যেন আমরা হেলায় হারিয়ে না ফেলি। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এই উদ্যোগকে সফল করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























