ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির স্বপ্নভঙ্গ, রদ্রির জাদুতে স্পেনের বিশ্বজয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে যখন বিশ্বকাপের ফাইনাল বাঁশি বাজল, তখন সেটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ছিল না; সেটি ছিল দুই মহাতারকার নিয়তি নির্ধারণের মুহূর্ত। এক পাশে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সি ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি, যার জন্য পুরো টুর্নামেন্টটি ছিল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে অমরত্বের গল্প লেখার মঞ্চ। অন্য পাশে ছিলেন রদ্রি—স্প্যানিশ মাঝমাঠের এক নিঃশব্দ সেনাপতি, যিনি এক বছর আগেও হাসপাতালের বেডে শুয়ে ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াই করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের সূর্য ডুবল মেসির ট্র্যাজেডি আর রদ্রির রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা খেলেছে স্বপ্নের মতো। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি আট গোল এবং চার অ্যাসিস্ট করে দলকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মেসির জাদুকরি দুটি অ্যাসিস্টেই ২-১ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালেও ফুটবলপ্রেমীরা মেসির হাতেই ট্রফি দেখছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার এই ‘অদম্য শক্তি’ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এসে ধাক্কা খেল স্পেনের এক ‘অচল বস্তুর’ সামনে। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্প্যানিশ রক্ষণভাগকে ভাঙার কোনো চাবিকাঠি আর্জেন্টিনার জানা ছিল না। আর এই রক্ষণভাগকে যিনি ইস্পাতকঠিন নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন—মাঝ মাঠের জেনারেল রদ্রি।

লা রোজাদের হয়ে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মাঝমাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছেন রদ্রি। স্পেন দলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের সময় সব মিলিয়ে ৭৫৬টি সফল পাস দেন। ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড। বিশ্বজয়ের পথে স্পেনের আটটি ম্যাচের প্রতিটিতেই দাপট দেখিয়েছেন মাঠে। এর মধ্যে বল স্পর্শ (৯১০ বার), প্রতিপক্ষের অর্ধে পাস (৪২৮টি) এবং রক্ষণ চেরা ‘লাইন-ব্রেকিং’ পাস (১২২টি) দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। যার মধ্যে ৭৬টি পাস ছিল প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে। সব সূচকেই তিনি ছিলেন সবার উপরে।

ফাইনালে ১০০-এর বেশি সফল পাসের রেকর্ড রয়েছে (১৯৬৬ সাল থেকে) মাত্র তিন খেলোয়াড়ের। ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের দুঙ্গা (১৩০টি) প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন। এরপর এ বছরই স্পেনের রক্ষণভাগের তরুণ রদ্রি এই তালিকায় নিজের নাম লেখালেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল ৭০৭ টি জীবিত কচ্ছপ, আটক এক

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির স্বপ্নভঙ্গ, রদ্রির জাদুতে স্পেনের বিশ্বজয়

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে যখন বিশ্বকাপের ফাইনাল বাঁশি বাজল, তখন সেটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ছিল না; সেটি ছিল দুই মহাতারকার নিয়তি নির্ধারণের মুহূর্ত। এক পাশে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সি ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি, যার জন্য পুরো টুর্নামেন্টটি ছিল টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে অমরত্বের গল্প লেখার মঞ্চ। অন্য পাশে ছিলেন রদ্রি—স্প্যানিশ মাঝমাঠের এক নিঃশব্দ সেনাপতি, যিনি এক বছর আগেও হাসপাতালের বেডে শুয়ে ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াই করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের সূর্য ডুবল মেসির ট্র্যাজেডি আর রদ্রির রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা খেলেছে স্বপ্নের মতো। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি আট গোল এবং চার অ্যাসিস্ট করে দলকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মেসির জাদুকরি দুটি অ্যাসিস্টেই ২-১ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালেও ফুটবলপ্রেমীরা মেসির হাতেই ট্রফি দেখছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার এই ‘অদম্য শক্তি’ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এসে ধাক্কা খেল স্পেনের এক ‘অচল বস্তুর’ সামনে। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খাওয়া স্প্যানিশ রক্ষণভাগকে ভাঙার কোনো চাবিকাঠি আর্জেন্টিনার জানা ছিল না। আর এই রক্ষণভাগকে যিনি ইস্পাতকঠিন নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন—মাঝ মাঠের জেনারেল রদ্রি।

লা রোজাদের হয়ে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মাঝমাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছেন রদ্রি। স্পেন দলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের সময় সব মিলিয়ে ৭৫৬টি সফল পাস দেন। ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড। বিশ্বজয়ের পথে স্পেনের আটটি ম্যাচের প্রতিটিতেই দাপট দেখিয়েছেন মাঠে। এর মধ্যে বল স্পর্শ (৯১০ বার), প্রতিপক্ষের অর্ধে পাস (৪২৮টি) এবং রক্ষণ চেরা ‘লাইন-ব্রেকিং’ পাস (১২২টি) দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। যার মধ্যে ৭৬টি পাস ছিল প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে। সব সূচকেই তিনি ছিলেন সবার উপরে।

ফাইনালে ১০০-এর বেশি সফল পাসের রেকর্ড রয়েছে (১৯৬৬ সাল থেকে) মাত্র তিন খেলোয়াড়ের। ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের দুঙ্গা (১৩০টি) প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন। এরপর এ বছরই স্পেনের রক্ষণভাগের তরুণ রদ্রি এই তালিকায় নিজের নাম লেখালেন।