শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন কে কেসি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীর পক্ষ থেকে বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আবেদনটি জমা পড়লেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। এনটিএমসি-এর সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন তাঁর বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার।
বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগ গঠন শেষে আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বোনের উপস্থিতি এবং বিদেশি আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল তখন প্রচলিত আইন মেনে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় দলিলাদিতে জিয়াউল আহসানের সই নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
স্টিভেন কে কেসি একজন প্রখ্যাত ব্রিটিশ ব্যারিস্টার, যিনি ইতিপূর্বেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের হয়ে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পুবাইলে তিন ব্যক্তিকে হত্যা এবং বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যার ঘটনা। বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিচারপ্রক্রিয়া এখন আন্তর্জাতিক আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।
রিপোর্টারের নাম 
























