আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই ও জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ঘিরে নির্বাচনী আসনগুলোতে বইছে প্রবল কৌতুহল। বিশেষ করে একই জোটভুক্ত বা সমমনা দলের প্রার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লড়াই করছেন বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে। ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর স ম খালেদুজ্জামান। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে তার বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের মো. আবিদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির আতিক আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে লড়বেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের। চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম। নরসিংদী-২ আসনে ড. আব্দুল মঈন খানের জন্য মাঠ ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত, সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মো. গোলাম সারওয়ার। কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মোকাবিলা করবেন জামায়াতের মো. মনিরুজ্জামান।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের বিপরীতে লড়ছেন বিডিপির মুহা. নিজামুল হক নাঈম। ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে জামায়াতের মো. শাহীনুর ইসলামের। এছাড়া দিনাজপুর-৬ আসনে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিপরীতে যথাক্রমে জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন লড়াইয়ে রয়েছেন। ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আকরাম আলী।
অন্যান্য আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে লড়ছেন রাশেদ খান। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে লড়ছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান। কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং রাজশাহী-১ আসনে মজিবুর রহমানের বিপরীতে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মিয়া গোলাম পরওয়ার, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং রফিকুল ইসলাম খান নিজ নিজ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মোকাবিলা করবেন।
নির্বাচনী মাঠে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিও বেশ নজরকাড়া। ঢাকা-১১ আসন থেকে নাহিদ ইসলাম, পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সারজিস আলম এবং কুমিল্লা-৪ আসন থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তাসনিম জারা। এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, ফেনী-২ আসনে মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং রংপুর-৩ আসনে জি এম কাদেরের মতো প্রভাবশালী প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফরহানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির অংশগ্রহণ নির্বাচনের লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























