আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক ঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিভিন্ন বামপন্থী দল এবার তাদের মনোনয়নে নতুন প্রজন্মকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে। কেবল প্রার্থী হিসেবেই নয়, বরং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, পডকাস্ট এবং টকশোতেও এই তরুণরাই দলের হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক ও জনমুখী কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনসিপির ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতারা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ এবং সারজিস আলমের মতো পরিচিত মুখগুলো অন্যতম।
তবে তরুণদের এই বিশাল অংশগ্রহণ সত্ত্বেও দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ব্যক্তি বদলালেও রাজনীতির গুণগত মান কি আদতে পাল্টাচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রার্থীরা নতুন রাজনীতির অঙ্গীকার করলেও শেষ পর্যন্ত তারা পুরোনো জোটবদ্ধ রাজনীতি এবং আসন ভাগাভাগির সমীকরণেই আটকে যাচ্ছেন। বিতার্কিক আব্দুন নূর তুষারের মতে, নতুন দলগুলো যদি বড় দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমূল পরিবর্তনের সুযোগ হারাবে। অন্যদিকে, বিএনপিতে সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতাদের সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিকে অনেকে কেবল ‘উত্তরাধিকারের রাজনীতি’র অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সাইয়েদ আল নোমান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো নতুন মুখগুলো দলের নেতৃত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন।
ভোটের মাঠে পরিবর্তনের এই লড়াইয়ে পুরোনো ব্যবস্থার চাপ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নূর মনে করেন, মানুষের মধ্যে এখনো কালো টাকার প্রভাব এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানসিকতা রয়ে গেছে, যা পরিবর্তন করা এক বড় চ্যালেঞ্জ। সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের বদলে রাজনীতি আবারও ব্যক্তি কল্যাণ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের পুরোনো ধারায় ফিরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক মাসুদ কামালের ভাষায়, রাজনীতিতে নতুন মুখ এলেও ‘নতুন বন্দোবস্তের’ কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এক ঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে এবারের নির্বাচন যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি পুরোনো পদ্ধতির বেড়াজালে আটকে পড়ার শঙ্কাও রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























