ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখন অবশিষ্ট ১০টি দলের মধ্যে আসন পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। জোটের শরিকদের মধ্যে অমীমাংসিত ৪৭টি আসন বণ্টন নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসনের মধ্যে ৩২টি নিজেদের জন্য রাখার প্রস্তাব পেশ করেছে, আর অবশিষ্ট ১৫টি আসন জোটের অন্য ৯টি শরিক দলের মধ্যে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এই ১৫টি আসনের বড় অংশ মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। জনপ্রিয়তার মাপকাঠি ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনা করে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) চূড়ান্ত আসন বণ্টন ঘোষণা করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ২৫৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭৯টি এবং এনসিপি ৩০টি আসন নিশ্চিত করেছিল। এখন ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় এনসিপি তাদের আসন সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০-এ উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
এদিকে, নির্বাচনী লড়াইয়ের বাইরেও দলগুলোর মধ্যে কিছু সৌজন্যমূলক সমঝোতা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের প্রতি সম্মান জানিয়ে বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুন্নবীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে ইসলামী আন্দোলনও ঘোষণা করেছে যে, মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না। মূলত জনপ্রিয় আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মানে বড় দলগুলো এমন নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করছে।
লিয়াজোঁ কমিটির এই বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাহিদ ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আজকের বৈঠকের মাধ্যমেই জোটের ৩০০ আসনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























