মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:০৭ অপরাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দেশীয় সুতা শিল্প রক্ষায় বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ, পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত

  • হালনাগাদ সময় : ১০:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত থেকে নির্দিষ্ট কাউন্টের (১০ থেকে ৩০) কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—বস্ত্রকল এবং তৈরি পোশাকশিল্প—একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শীর্ষ রপ্তানিমুখী আরএমজি শিল্প গভীর সংকটে পড়বে। অন্যদিকে, বস্ত্রকল মালিকদের মতে, এই সুবিধা প্রত্যাহার করা না হলে দেশীয় সুতা উৎপাদন শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এই বন্ড সুবিধা বাতিল হলে তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বাড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা বলছেন, শুল্কমুক্ত আমদানির বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার না করা হলে দেশীয় সুতা উৎপাদন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রায় ৫০টি সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের গত ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ২৯ ডিসেম্বরের দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও-২ শাখা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১০ ও ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও এনবিআর গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, তবে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার ও বহাল রাখার দাবিতে বস্ত্রকল এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির ফল বিপর্যয়: শিক্ষার মান, কাঠামোগত দুর্বলতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন

31 October 2026

এইচএসসির ফল প্রকাশ: পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বরিশাল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দেশীয় সুতা শিল্প রক্ষায় বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ, পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত

হালনাগাদ সময় : ১০:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত থেকে নির্দিষ্ট কাউন্টের (১০ থেকে ৩০) কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—বস্ত্রকল এবং তৈরি পোশাকশিল্প—একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শীর্ষ রপ্তানিমুখী আরএমজি শিল্প গভীর সংকটে পড়বে। অন্যদিকে, বস্ত্রকল মালিকদের মতে, এই সুবিধা প্রত্যাহার করা না হলে দেশীয় সুতা উৎপাদন শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এই বন্ড সুবিধা বাতিল হলে তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বাড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা বলছেন, শুল্কমুক্ত আমদানির বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার না করা হলে দেশীয় সুতা উৎপাদন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রায় ৫০টি সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের গত ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ২৯ ডিসেম্বরের দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও-২ শাখা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১০ ও ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও এনবিআর গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, তবে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার ও বহাল রাখার দাবিতে বস্ত্রকল এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card