আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যার ফলস্বরূপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল তারা। তবে আইসিসি সময়স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তরে অপারগতা প্রকাশ করেছে। আজ, ২১শে জানুয়ারি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হতে পারে বলে বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা অস্বীকার করেছেন।
ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছে বিসিবি। তাদের প্রধান উদ্বেগ ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, সংবাদকর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিতে। তখন থেকেই বিসিবি প্রশ্ন তোলে, একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে যেখানে বিসিসিআই অপারগ, সেখানে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে? গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে আইসিসির সঙ্গে এ বিষয়ে চিঠি চালাচালি শুরু করে বিসিবি।
নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিসিবি আইসিসির কাছে দাবি জানায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। এই বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকও করে বিসিবি। সেখানে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও, শেষ পর্যন্ত আইসিসি সময়স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে এই প্রস্তাবে অপারগতা প্রকাশ করে। লজিস্টিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা শেষ হওয়ার পর আইসিসি ভারতকে ম্যাচগুলো আয়োজনের অনুরোধ জানায়। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। শ্রীলঙ্কা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ভেন্যু না থাকায় এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদল-বদল করার প্রস্তাবও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার আশা প্রায় শেষ।
ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো গত পরশু রাতে জানিয়েছিল, ২১শে জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এতে আরও ঘনীভূত হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার শঙ্কা। তবে গতকাল বিকেলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এই তথ্য অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা বলে দিই যে এই ভেন্যুতে খেলতে অপারগ। পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যুর জন্য আমরা অনুরোধ করি। তাদের প্রতিনিধির (আইসিসি) সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারা তখন আমাদের বলেন যে ঠিক আছে এই ব্যাপারগুলো তারা আইসিসিকে অবহিত করবেন এবং পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়ে দেবেন। এ ব্যাপারে তারা কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা কবে নাগাদ জানাবেন কিছুই বলেননি।”
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির একাধিক পরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, আজ ২১শে জানুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারিত হবে। শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি একরকম চূড়ান্তই হয়ে আছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানানোর অপেক্ষা।
যদি বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করে, তবে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেতে পারে বলেও ইএসপিএন ক্রিকইনফো সূত্রে জানা গেছে। আইসিসি এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























