রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালকে খাবার এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে এক স্কুল শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার নাম সৈয়দা নাসরিন আক্তার। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ধানমন্ডির বুলবুল ললিতকলা একাডেমির শিক্ষক। সোমবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাসরিন আক্তার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধানমন্ডির পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় নিজের খরচে রাস্তার অসহায় কুকুর ও বিড়ালদের খাবার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। এই মানবিক কাজ করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির রোষানলে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে স্কুল থেকে ফেরার পথে স্থানীয় জাকির হোসেন সান্টু (৫৫) নামের এক ব্যক্তি তাকে পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় সান্টু তাকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেন, ওই এলাকায় কুকুর-বিড়ালকে খাবার দিলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই শিক্ষিকা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সান্টু তাকে প্রায় ৩৫ মিনিট আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এর আগেও গত বছরের ৫ জুলাই সান্টুর সহযোগী সামিউল ইসলাম তারা একইরকমভাবে তাকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। এসব ঘটনার পর তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাসরিন আক্তার জানান, এসব ঘটনায় তিনি হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১২৩৬) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বাধার কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত সান্টু এর আগেও একাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনার পর থেকে ভয়ে তিনি কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। অভিযুক্তদের দাবি, কুকুর-বিড়ালের ডাকে তাদের ঘুমের সমস্যা হয় এবং বাড়ির ভাড়াটিয়ারা চলে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ করে সৈয়দা নাসরিন আক্তার বলেন, “অসহায় প্রাণীদের সেবা করা কি আমার অপরাধ? আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।” এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















