ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফায়ার লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ফায়ার লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে আসা রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রিট আবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভারের হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৮ হাজার ১১৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৫ হাজার ৯৪৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ২৫০টি ব্লাড ব্যাংক। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৫৬৫টির ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৫১৮টি প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আবেদনে আরও জানানো হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ পরিবেশগতভাবে অনুপযোগী এবং অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে একই ভবনে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও অগ্নি প্রতিরোধ আইনের পরিপন্থী। জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে এই রিট দায়ের করা হয়। রিটের শুনানি শেষে আদালত রুলসহ এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

ফায়ার লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ফায়ার লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে আসা রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রিট আবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভারের হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৮ হাজার ১১৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৫ হাজার ৯৪৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ২৫০টি ব্লাড ব্যাংক। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৫৬৫টির ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৫১৮টি প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আবেদনে আরও জানানো হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ পরিবেশগতভাবে অনুপযোগী এবং অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থিত। অনেক ক্ষেত্রে একই ভবনে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও অগ্নি প্রতিরোধ আইনের পরিপন্থী। জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে এই রিট দায়ের করা হয়। রিটের শুনানি শেষে আদালত রুলসহ এই নির্দেশনা প্রদান করেন।