ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ ও তা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার একটি বিশেষ আদালত সোমবার এই আদেশ দেয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে।
ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মো. আব্দুস সালামের আদালত এই অভিযোগ গঠন করে। মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এছাড়া, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না; এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযোগ গঠনের শুনানিকালে কারাগারে আটক দুই আসামি, নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক, নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানিকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। অন্য আসামিরা অনুপস্থিত ছিলেন। দুই আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়।
নাহিদা রুনাইয়ের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম আদালতকে বলেন, তার মক্কেল এই ঋণের বিষয়ে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন না এবং এজাহার বা চার্জশিটে তার নাম উল্লেখ নেই। তিনি কেবল একজন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঋণের ফাইল সংক্রান্ত কাজে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
একইভাবে, রাশেদুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, তার মক্কেল এই বিভাগের একমাত্র সদস্য ছিলেন না এবং তিনি শেয়ারহোল্ডারও নন। বেতনের বাইরে তিনি কোনো অতিরিক্ত লাভও গ্রহণ করেননি। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারও অব্যাহতি প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোং নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর সেই অর্থ বিতরণ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১৬ অক্টোবর মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























