ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

আফ্রিকান নেশনস কাপ: নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেনেগালের শিরোপা পুনরুদ্ধার

আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও নিজেদের প্রমাণ করল সেনেগাল। টানটান উত্তেজনা, বিতর্ক আর নাটকীয়তায় ভরা এক ফাইনাল শেষে মরক্কোকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশনস কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে সাদিও মানের দল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে পাপ গেয়ির একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত হয় সেনেগালের। এর আগে ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল তারা।

টুর্নামেন্টের শুরুটা যেমন জমজমাট ছিল, তেমনি ফাইনালও শেষ হলো রুদ্ধশ্বাস আর রোমাঞ্চে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সেনেগাল। সতীর্থের চমৎকার ক্রস গোলমুখে পেয়েও গোলরক্ষক বরাবর হেড করে হতাশ করেন পাপ গেয়ি। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে মরক্কোর গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন ইলিমান। চার মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করার দারুণ সুযোগ পায় মরক্কো। বাঁ প্রান্ত থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও তাতে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি নায়েফ। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে এল কাবিরের বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরের কয়েক মিনিটে আরও অন্তত তিনবার শট নিলেও সেনেগালের জাল খুঁজে পায়নি মরক্কো। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে মরক্কো প্রথমবার লক্ষ্যে শট রাখতে সক্ষম হয়, যদিও আব্দেলের দুর্বল ভলি সরাসরি যায় গোলরক্ষকের হাতে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এসে নাটকীয়তার শুরু। ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লেগে ফেরার পর ফিরতি বলে হেড করে জালে পাঠিয়েছিলেন ইসমাইল সার। কিন্তু রেফারি আগেই ফাউলের বাঁশি বাজান। হেড করার আগে ইদ্রিসা গেয়ি আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন, এই কারণেই গোলটি বাতিল হয়।

এরপর যোগ করা আট মিনিটের প্রায় তিন মিনিট বাকি থাকতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম হয়। মরক্কোর পাওয়া কর্নার থেকে বল দূরের পোস্টে উড়ছিল, সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াজ ফাউলের শিকার হন। ভিএআরের সাহায্যে রেফারি নিজে মনিটরে দেখে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদস্বরূপ সেনেগালের খেলোয়াড়রা কিছুক্ষণের জন্য মাঠ ছেড়ে চলে যান, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

সব নাটকীয়তা ছাপিয়ে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪তম মিনিট) ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে নেন পাপ গেয়ি। এই এক গোলের সুবাদেই মরক্কোকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশনস কাপের শিরোপা ঘরে তোলে সেনেগাল, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান আবদুস সালামের

আফ্রিকান নেশনস কাপ: নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেনেগালের শিরোপা পুনরুদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও নিজেদের প্রমাণ করল সেনেগাল। টানটান উত্তেজনা, বিতর্ক আর নাটকীয়তায় ভরা এক ফাইনাল শেষে মরক্কোকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশনস কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে সাদিও মানের দল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে পাপ গেয়ির একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত হয় সেনেগালের। এর আগে ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল তারা।

টুর্নামেন্টের শুরুটা যেমন জমজমাট ছিল, তেমনি ফাইনালও শেষ হলো রুদ্ধশ্বাস আর রোমাঞ্চে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সেনেগাল। সতীর্থের চমৎকার ক্রস গোলমুখে পেয়েও গোলরক্ষক বরাবর হেড করে হতাশ করেন পাপ গেয়ি। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে মরক্কোর গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন ইলিমান। চার মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করার দারুণ সুযোগ পায় মরক্কো। বাঁ প্রান্ত থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও তাতে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি নায়েফ। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে এল কাবিরের বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরের কয়েক মিনিটে আরও অন্তত তিনবার শট নিলেও সেনেগালের জাল খুঁজে পায়নি মরক্কো। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে মরক্কো প্রথমবার লক্ষ্যে শট রাখতে সক্ষম হয়, যদিও আব্দেলের দুর্বল ভলি সরাসরি যায় গোলরক্ষকের হাতে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এসে নাটকীয়তার শুরু। ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লেগে ফেরার পর ফিরতি বলে হেড করে জালে পাঠিয়েছিলেন ইসমাইল সার। কিন্তু রেফারি আগেই ফাউলের বাঁশি বাজান। হেড করার আগে ইদ্রিসা গেয়ি আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন, এই কারণেই গোলটি বাতিল হয়।

এরপর যোগ করা আট মিনিটের প্রায় তিন মিনিট বাকি থাকতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম হয়। মরক্কোর পাওয়া কর্নার থেকে বল দূরের পোস্টে উড়ছিল, সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াজ ফাউলের শিকার হন। ভিএআরের সাহায্যে রেফারি নিজে মনিটরে দেখে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদস্বরূপ সেনেগালের খেলোয়াড়রা কিছুক্ষণের জন্য মাঠ ছেড়ে চলে যান, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

সব নাটকীয়তা ছাপিয়ে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪তম মিনিট) ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে নেন পাপ গেয়ি। এই এক গোলের সুবাদেই মরক্কোকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশনস কাপের শিরোপা ঘরে তোলে সেনেগাল, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।