ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সিএমপির তালিকা প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির, চসিক মেয়রের পদত্যাগ কামনা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃক প্রকাশিত ৩২৮ জন দুষ্কৃতিকারীর তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতারা এই তালিকাকে পুলিশের ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।

সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি সিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩২৮ জন সন্ত্রাসীকে মহানগর এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং তাদের শহর ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী মামলার আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে। এনসিপি নেতারা মনে করেন, সন্ত্রাসীদের এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না। এটি মূলত সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, সিএমপির কাছে যদি সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় ও অবস্থান জানাই থাকে, তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন? আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়া নয়, বরং তাদের আইনের আওতায় আনা। ভোটার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব চিহ্নিত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেন বহাল থাকায় জনমনে অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, সিটি মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের অন্তরায়। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তার পদত্যাগ করা জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ওপেল এবং মহানগর সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সিএমপি ৩৩০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করলে সেখানে একজন মৃত ব্যক্তি ও একজন রাজনৈতিক নেতার নাম থাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই তালিকা সংশোধন করে ৩২৮ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস, তবে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি

সিএমপির তালিকা প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির, চসিক মেয়রের পদত্যাগ কামনা

আপডেট সময় : ১১:০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃক প্রকাশিত ৩২৮ জন দুষ্কৃতিকারীর তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতারা এই তালিকাকে পুলিশের ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।

সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি সিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩২৮ জন সন্ত্রাসীকে মহানগর এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান এবং তাদের শহর ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী মামলার আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে। এনসিপি নেতারা মনে করেন, সন্ত্রাসীদের এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না। এটি মূলত সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, সিএমপির কাছে যদি সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় ও অবস্থান জানাই থাকে, তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন? আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়া নয়, বরং তাদের আইনের আওতায় আনা। ভোটার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব চিহ্নিত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেন বহাল থাকায় জনমনে অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, সিটি মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের অন্তরায়। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তার পদত্যাগ করা জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ওপেল এবং মহানগর সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সিএমপি ৩৩০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করলে সেখানে একজন মৃত ব্যক্তি ও একজন রাজনৈতিক নেতার নাম থাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই তালিকা সংশোধন করে ৩২৮ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসন।