ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চিরন্তন অনুপ্রেরণা: মির্জা ফখরুল

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদুজ্জামানের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের চিরন্তন শক্তির উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আসাদের বলিদান এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সবসময় সাহস ও প্রেরণা জোগাবে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, যে গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে আসাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সময়ের প্রধান কর্তব্য। একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কাজে সবাইকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ আসাদ দিবসে আমাদের দৃপ্ত শপথ হওয়া উচিত গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, শহীদ আসাদ ছিলেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে, শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে ৯০-এর ডাকসু ও শহীদ আসাদ পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। সোমবার ৯০-এর ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ৯০-এর ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতৃবৃন্দ ও শহীদ আসাদ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার ১১ দফা দাবির মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শহীদ হন। আসাদের এই আত্মত্যাগ তৎকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে এক চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। প্রবল জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস, তবে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি

শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চিরন্তন অনুপ্রেরণা: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ১১:০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদুজ্জামানের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের চিরন্তন শক্তির উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আসাদের বলিদান এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সবসময় সাহস ও প্রেরণা জোগাবে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, যে গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে আসাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সময়ের প্রধান কর্তব্য। একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কাজে সবাইকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ আসাদ দিবসে আমাদের দৃপ্ত শপথ হওয়া উচিত গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, শহীদ আসাদ ছিলেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে, শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে ৯০-এর ডাকসু ও শহীদ আসাদ পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। সোমবার ৯০-এর ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ৯০-এর ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতৃবৃন্দ ও শহীদ আসাদ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার ১১ দফা দাবির মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শহীদ হন। আসাদের এই আত্মত্যাগ তৎকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে এক চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। প্রবল জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ আরও প্রশস্ত হয়।