ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন এই আদেশ জারি করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগে গণসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে (ফেসবুক) অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল নামীয় একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত ২৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ওই সভায় অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

ভিডিও ক্লিপটি বিশ্লেষণের পর কমিটি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং অভিযোগটি ‘নির্বাচনী অভিযোগ নং–০১/২০২৬’ হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়। কমিটির মতে, এ ধরনের গণসংযোগ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫ এর ৪ ও ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধির ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে কোনো প্রার্থী নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন না।

প্রার্থী হিসেবে আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে (উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (মধ্য গণেশপুর গ্রাম) ইউপি সদস্য সাজ্জাদুর রহমানকে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশের অনুলিপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ছাতক থানা এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের নিকট প্রেরণের নির্দেশ দেয় কমিটি। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বর্তমান ঠিকানায় আদেশ জারি করে জারিকৃত কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

আপডেট সময় : ০১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন এই আদেশ জারি করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগে গণসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে (ফেসবুক) অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল নামীয় একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত ২৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ওই সভায় অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

ভিডিও ক্লিপটি বিশ্লেষণের পর কমিটি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং অভিযোগটি ‘নির্বাচনী অভিযোগ নং–০১/২০২৬’ হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়। কমিটির মতে, এ ধরনের গণসংযোগ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫ এর ৪ ও ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধির ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে কোনো প্রার্থী নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন না।

প্রার্থী হিসেবে আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে (উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (মধ্য গণেশপুর গ্রাম) ইউপি সদস্য সাজ্জাদুর রহমানকে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশের অনুলিপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ছাতক থানা এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের নিকট প্রেরণের নির্দেশ দেয় কমিটি। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বর্তমান ঠিকানায় আদেশ জারি করে জারিকৃত কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।