কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের হাছলা গ্রামের শহীদ তরিকুল ইসলাম রুবেলের পরিবার এখনো তার স্মৃতিতে কাতর। দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত রুবেলের মায়ের কান্নায় পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভাঙে। রুবেল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চায় তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রুবেল ছিলেন সবার আদরের সন্তান এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বেশ সচেতন ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। সেই দিন থেকেই পরিবারের সুখ-শান্তি যেন চিরতরে হারিয়ে গেছে।
রুবেলের বড় ভাই ইফতেখারুল ইসলাম জুয়েল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রতিদিন রাত গভীর হলে মায়ের কান্নার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। মা এখনো ছেলের কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদেন। সন্তান হারানোর বেদনা কোনো কথায় মুছে দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরো জানান, রুবেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছবি বা তার স্মৃতিগুলো সামনে এলেই মা ভেঙে পড়েন এবং পুরো পরিবার আবার সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিতে ফিরে যায়। আগে ঈদ ছিল পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের সময়, কিন্তু এখন ঈদ এলেই যখন রুবেলের ফোন আসে না, তখন বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ঘরের আনন্দ আর নেই, ঈদে চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ। ঈদ তাদের কাছে এখন শোকের দিন।
তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে শহীদ রুবেলের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার আত্মত্যাগ বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমি শহীদ রুবেল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
রিপোর্টারের নাম 




















