ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ: জামায়াত প্রার্থীর ‘আইনি লড়াই’ মন্তব্য

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বাতিল হওয়া ফেনী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর আপিল মঞ্জুর করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আপিলেও মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক এই আইনি প্রক্রিয়াকে নির্বাচনী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ তাদের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে দুপুর ১টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও রায় পেন্ডিং রাখা হয়েছিল এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই আপিল প্রক্রিয়া ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। এমনকি, আপিল খারিজ হয়ে গেছে মর্মে একাধিকবার মিথ্যা সংবাদও ছড়িয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “এটি একটি সাধারণ এবং আইনি প্রক্রিয়া। সংবিধান, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) এবং নির্বাচন আচরণবিধি প্রার্থীদের এই সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনে কেউ যেন বাড়তি অথবা বিশেষ সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য আইনের মাধ্যমে তা সুরাহা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের রায়ে কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ারও সুযোগ আছে। তাই এ বিষয়টিকে কোনো বাড়াবাড়ি, আইনবহির্ভূত অথবা অন্যায় পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) গ উপধারায় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. মানিক জানান, এ বিষয়ে তিনি অন্য সময়ে বিস্তারিত লিখবেন। তিনি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

ডা. মানিক তার পোস্টে আরও বলেন, “আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমার নির্বাচনী লড়াই। তিনি আমার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এ লড়াই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করার মাধ্যমে চলবে। জনরায়ের ভিত্তিতে এর সমাপ্তি হবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি তার ও মিন্টুর সমর্থকদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে যেন কেউ ভার্চুয়ালি অথবা সরাসরি বাহাস-বিতর্কে লিপ্ত হয়ে নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন না করেন, অশ্রাব্য ও অশালীন শব্দ ব্যবহার না করেন, এমনকি হুমকি-ধমকি প্রদর্শন না করেন। এমন আচরণ তাদের উভয়ের ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, “আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সম্পর্ক আছে এবং থাকবে। নির্বাচনী লড়াই আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আমার এলাকার সম্মানিত বড় ভাই হিসেবে উনার প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান সব সময় থাকবে। আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের জন্য শুভকামনা।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নামে প্রতারণা: মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি, আইনি পদক্ষেপ

ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ: জামায়াত প্রার্থীর ‘আইনি লড়াই’ মন্তব্য

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বাতিল হওয়া ফেনী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর আপিল মঞ্জুর করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আপিলেও মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক এই আইনি প্রক্রিয়াকে নির্বাচনী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ তাদের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে দুপুর ১টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও রায় পেন্ডিং রাখা হয়েছিল এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই আপিল প্রক্রিয়া ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। এমনকি, আপিল খারিজ হয়ে গেছে মর্মে একাধিকবার মিথ্যা সংবাদও ছড়িয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “এটি একটি সাধারণ এবং আইনি প্রক্রিয়া। সংবিধান, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) এবং নির্বাচন আচরণবিধি প্রার্থীদের এই সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনে কেউ যেন বাড়তি অথবা বিশেষ সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য আইনের মাধ্যমে তা সুরাহা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের রায়ে কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ারও সুযোগ আছে। তাই এ বিষয়টিকে কোনো বাড়াবাড়ি, আইনবহির্ভূত অথবা অন্যায় পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) গ উপধারায় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. মানিক জানান, এ বিষয়ে তিনি অন্য সময়ে বিস্তারিত লিখবেন। তিনি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

ডা. মানিক তার পোস্টে আরও বলেন, “আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমার নির্বাচনী লড়াই। তিনি আমার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এ লড়াই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করার মাধ্যমে চলবে। জনরায়ের ভিত্তিতে এর সমাপ্তি হবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি তার ও মিন্টুর সমর্থকদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে যেন কেউ ভার্চুয়ালি অথবা সরাসরি বাহাস-বিতর্কে লিপ্ত হয়ে নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন না করেন, অশ্রাব্য ও অশালীন শব্দ ব্যবহার না করেন, এমনকি হুমকি-ধমকি প্রদর্শন না করেন। এমন আচরণ তাদের উভয়ের ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, “আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সম্পর্ক আছে এবং থাকবে। নির্বাচনী লড়াই আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আমার এলাকার সম্মানিত বড় ভাই হিসেবে উনার প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান সব সময় থাকবে। আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের জন্য শুভকামনা।”