ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুর-৪: আপিলে আ.লীগ নেতার প্রার্থিতা বৈধ, ক্ষুব্ধ ‘জুলাই যোদ্ধারা’

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আপিল শুনানির পর তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই পর্বে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকায় গরমিল থাকায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান শরাফ উদ্দীনের মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল করেন তিনি। আপিল বিভাগ ৪ হাজার ১৮২ জন ভোটারের সমর্থনের সত্যতা যাচাই শেষে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে ঘোষণা করে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের স্থানীয় সংগঠকরা। জুলাই মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রনেতা আব্দুস সোবহান অভিযোগ করে বলেন, “শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল বিগত জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলাকারী এবং স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম দোসর। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে ভোট কারচুপি ও নৌকার পক্ষে শো-ডাউন করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপরও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও সোহেলের অনুসারীরা গোপনে সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং জুলাইয়ের বিজয়কে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। অনতিবিলম্বে তার মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই ছাত্রনেতা।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, সোহেল চেয়ারম্যানের অনুসারীরা কিছুদিন আগেও বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ও পোস্টার ভাঙচুর করেছে। গত ১৫ বছর ধরে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে রামগতি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল উপজেলা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সেটি জেলা কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নেতার এই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি রামগতি ও কমলনগর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা এই সিদ্ধান্তকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নামে প্রতারণা: মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি, আইনি পদক্ষেপ

লক্ষ্মীপুর-৪: আপিলে আ.লীগ নেতার প্রার্থিতা বৈধ, ক্ষুব্ধ ‘জুলাই যোদ্ধারা’

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আপিল শুনানির পর তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই পর্বে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকায় গরমিল থাকায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান শরাফ উদ্দীনের মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল করেন তিনি। আপিল বিভাগ ৪ হাজার ১৮২ জন ভোটারের সমর্থনের সত্যতা যাচাই শেষে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে ঘোষণা করে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের স্থানীয় সংগঠকরা। জুলাই মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রনেতা আব্দুস সোবহান অভিযোগ করে বলেন, “শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল বিগত জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলাকারী এবং স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম দোসর। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে ভোট কারচুপি ও নৌকার পক্ষে শো-ডাউন করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপরও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও সোহেলের অনুসারীরা গোপনে সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং জুলাইয়ের বিজয়কে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। অনতিবিলম্বে তার মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই ছাত্রনেতা।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, সোহেল চেয়ারম্যানের অনুসারীরা কিছুদিন আগেও বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ও পোস্টার ভাঙচুর করেছে। গত ১৫ বছর ধরে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে রামগতি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল উপজেলা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সেটি জেলা কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নেতার এই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি রামগতি ও কমলনগর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা এই সিদ্ধান্তকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।