ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ, লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন গত রোববার থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনটি ইউনিটের সবগুলোই অচল হয়ে পড়ায় দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বয়লার ফেটে প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এরও আগে, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট। সর্বশেষ, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়, যা ১৪ জানুয়ারি আবার উৎপাদনে ফিরেছিল। তবে, মাত্র চার দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গত রোববার সকালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রথম ইউনিটটিও পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব কটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বককর সিদ্দিক গত রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার এই বয়লারটি ঠান্ডা হওয়ার পর এর মেরামত কাজ শুরু হবে। তবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। প্রকৌশলী সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো, প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এর বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হয়। এবারের মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চলে। প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি মেরামতের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আগামী মার্চ নাগাদ এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের ক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গড়িমসি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নামে প্রতারণা: মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি, আইনি পদক্ষেপ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ, লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন গত রোববার থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনটি ইউনিটের সবগুলোই অচল হয়ে পড়ায় দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বয়লার ফেটে প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এরও আগে, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট। সর্বশেষ, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়, যা ১৪ জানুয়ারি আবার উৎপাদনে ফিরেছিল। তবে, মাত্র চার দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গত রোববার সকালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রথম ইউনিটটিও পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব কটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বককর সিদ্দিক গত রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার এই বয়লারটি ঠান্ডা হওয়ার পর এর মেরামত কাজ শুরু হবে। তবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। প্রকৌশলী সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো, প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এর বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হয়। এবারের মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চলে। প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি মেরামতের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আগামী মার্চ নাগাদ এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের ক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গড়িমসি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।