ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

টিএসসিতে শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু, উপাচার্যের দ্রুত বিচার দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে এই মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মেলায় বক্তারা শহীদ হাদির আদর্শকে ধারণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বইকে মুক্তচিন্তার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের সহায়তায় আয়োজিত এই মেলা ১৮ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় মোট ২২টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল অংশ নিয়েছে। বইমেলার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও আদর্শ স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফির সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফাতেমা তাসনিম জুমা, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন হৃদয়, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং ঢাবি শাখার সভাপতি আশিক খানসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে। শহীদ ওসমান হাদির ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, হাদি সর্বদা ন্যায় ও মজলুমের পক্ষে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন মানুষের নয়, একটি আদর্শকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা ছিল। উপাচার্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের লড়াই কাদের বিরুদ্ধে, তা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে গেছেন। যারা তাকে হত্যা করেছিল, তারা ভেবেছিল এর মাধ্যমে তার আদর্শ, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যাবে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং তার আদর্শ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আজ সবাই এক সুরে বলছে- ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব।’ হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। আমরা জীবিত থাকতেই তার হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করবো- ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান বইমেলার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, এর লক্ষ্য হলো ওসমান হাদির জীবন, আদর্শ ও সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি চিন্তা ও পাঠের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনাকে জাগ্রত করা এবং বইকে প্রতিরোধ ও মুক্তচিন্তার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

টিএসসিতে শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু, উপাচার্যের দ্রুত বিচার দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে এই মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মেলায় বক্তারা শহীদ হাদির আদর্শকে ধারণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বইকে মুক্তচিন্তার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের সহায়তায় আয়োজিত এই মেলা ১৮ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় মোট ২২টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল অংশ নিয়েছে। বইমেলার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও আদর্শ স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফির সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফাতেমা তাসনিম জুমা, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন হৃদয়, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং ঢাবি শাখার সভাপতি আশিক খানসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে। শহীদ ওসমান হাদির ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, হাদি সর্বদা ন্যায় ও মজলুমের পক্ষে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন মানুষের নয়, একটি আদর্শকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা ছিল। উপাচার্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের লড়াই কাদের বিরুদ্ধে, তা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে গেছেন। যারা তাকে হত্যা করেছিল, তারা ভেবেছিল এর মাধ্যমে তার আদর্শ, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যাবে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং তার আদর্শ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আজ সবাই এক সুরে বলছে- ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব।’ হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। আমরা জীবিত থাকতেই তার হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করবো- ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান বইমেলার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, এর লক্ষ্য হলো ওসমান হাদির জীবন, আদর্শ ও সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি চিন্তা ও পাঠের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনাকে জাগ্রত করা এবং বইকে প্রতিরোধ ও মুক্তচিন্তার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।