ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোনায় এসএসসির ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় অভিভাবক লাঞ্ছিত

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদ করায় এক অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোববার (২৪ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক অভিভাবক।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ কার্যক্রম চলছে। সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত এই অর্থের কারণ হিসেবে কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলছেন শিক্ষকরা। বাড়তি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়া এবং পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

ভুক্তভোগী অভিভাবক ঝুমন মিয়া জানান, তার চাচাতো ভাইয়ের ফরম ফিলাপের জন্য তিনি বিদ্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ কোচিং ফিসহ মোট ৯ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে আপত্তি জানালে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে ৯ হাজার টাকা জমা দিয়ে রসিদ চাইলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আব্দুল গণি বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সব করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম খোকন জানান, ফরম ফিলাপ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে ৯ হাজার টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট অন্য শিক্ষকের ওপর দায় চাপান। অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিষয়েও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, তিনি বর্তমানে জেলা সদরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নামে প্রতারণা: মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি, আইনি পদক্ষেপ

নেত্রকোনায় এসএসসির ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় অভিভাবক লাঞ্ছিত

আপডেট সময় : ০৭:১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদ করায় এক অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোববার (২৪ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক অভিভাবক।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ কার্যক্রম চলছে। সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত এই অর্থের কারণ হিসেবে কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলছেন শিক্ষকরা। বাড়তি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়া এবং পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

ভুক্তভোগী অভিভাবক ঝুমন মিয়া জানান, তার চাচাতো ভাইয়ের ফরম ফিলাপের জন্য তিনি বিদ্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ কোচিং ফিসহ মোট ৯ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে আপত্তি জানালে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে ৯ হাজার টাকা জমা দিয়ে রসিদ চাইলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আব্দুল গণি বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সব করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম খোকন জানান, ফরম ফিলাপ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে ৯ হাজার টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সংশ্লিষ্ট অন্য শিক্ষকের ওপর দায় চাপান। অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিষয়েও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, তিনি বর্তমানে জেলা সদরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।