ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রংপুরের দুই তারকার ব্যাটে-বলে ঝলক, জয়রথ অব্যাহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের দাপট অব্যাহত রেখেছে রংপুর রাইডার্স। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে দলের দুই দেশি তারকা তাওহিদ হৃদয় ও নাহিদ রানার অনবদ্য পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে তারা। ব্যাট হাতে হৃদয় যেমন ঝড় তুলেছেন, তেমনি বল হাতে নাহিদ রানা প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনকে ধসিয়ে দিয়েছেন।

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেন রংপুর রাইডার্সের ওপেনার তাওহিদ হৃদয়। ডেভিড মালানের সঙ্গে মিলে তিনি ১২৬ রানের এক বিশাল উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ৪৬ বলের মোকাবেলায় হৃদয় ৬২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তবে, তার ইনিংসের একটি নেতিবাচক দিক ছিল ডট বলের আধিক্য; ৪৬ বলের মধ্যে তিনি ২০টি বল ডট খেলেছেন। ইনিংসের শুরুতে ধীর গতিতে শুরু করলেও, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর দুটি চার মেরে তিনি বড় ইনিংসের আভাস দেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন। তবে, তার এই অসাধারণ ইনিংসে তিনবার জীবন পেয়েও তিনি তা কাজে লাগাতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, বল হাতে নাহিদ রানা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নিজের কোটার পুরো চার ওভার বল করে মাত্র ১১ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার বোলিং এতটাই কার্যকর ছিল যে, তিনি ১৪টি ডট বলও দিয়েছেন, যা প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে। নিজের কোটার প্রথম দুই ওভারেই তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। প্রথম দুই ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ২-০-৫-২। শেষ দুই ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রমাণ রাখেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানা জানান, তিনি শুধু গুড লাইন-লেংথে বোলিং করার চেষ্টা করছিলেন। এবারের বিপিএলে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার। পূর্বের ম্যাচগুলোতেও সুযোগ পেলেও এমন পারফর্মেন্সের দেখা মেলেনি। তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য কিছু দেখি না। আমি দেখি কীভাবে আমার দলকে উইনিং পারফর্ম দেব। আর এটা করতে পারলে আমার কাছে অনেক খুশি লাগে।”

রংপুর রাইডার্সের এই দুই তরুণ তারকার অনবদ্য পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশি খেলোয়াড়দের উপর ভরসা রেখেও জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। তাদের এই নৈপুণ্য দলটিকে বিপিএলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত যুবকের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

রংপুরের দুই তারকার ব্যাটে-বলে ঝলক, জয়রথ অব্যাহত

আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের দাপট অব্যাহত রেখেছে রংপুর রাইডার্স। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে দলের দুই দেশি তারকা তাওহিদ হৃদয় ও নাহিদ রানার অনবদ্য পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে তারা। ব্যাট হাতে হৃদয় যেমন ঝড় তুলেছেন, তেমনি বল হাতে নাহিদ রানা প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনকে ধসিয়ে দিয়েছেন।

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেন রংপুর রাইডার্সের ওপেনার তাওহিদ হৃদয়। ডেভিড মালানের সঙ্গে মিলে তিনি ১২৬ রানের এক বিশাল উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ৪৬ বলের মোকাবেলায় হৃদয় ৬২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তবে, তার ইনিংসের একটি নেতিবাচক দিক ছিল ডট বলের আধিক্য; ৪৬ বলের মধ্যে তিনি ২০টি বল ডট খেলেছেন। ইনিংসের শুরুতে ধীর গতিতে শুরু করলেও, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর দুটি চার মেরে তিনি বড় ইনিংসের আভাস দেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন। তবে, তার এই অসাধারণ ইনিংসে তিনবার জীবন পেয়েও তিনি তা কাজে লাগাতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, বল হাতে নাহিদ রানা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নিজের কোটার পুরো চার ওভার বল করে মাত্র ১১ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার বোলিং এতটাই কার্যকর ছিল যে, তিনি ১৪টি ডট বলও দিয়েছেন, যা প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে। নিজের কোটার প্রথম দুই ওভারেই তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। প্রথম দুই ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ২-০-৫-২। শেষ দুই ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রমাণ রাখেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানা জানান, তিনি শুধু গুড লাইন-লেংথে বোলিং করার চেষ্টা করছিলেন। এবারের বিপিএলে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার। পূর্বের ম্যাচগুলোতেও সুযোগ পেলেও এমন পারফর্মেন্সের দেখা মেলেনি। তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য কিছু দেখি না। আমি দেখি কীভাবে আমার দলকে উইনিং পারফর্ম দেব। আর এটা করতে পারলে আমার কাছে অনেক খুশি লাগে।”

রংপুর রাইডার্সের এই দুই তরুণ তারকার অনবদ্য পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশি খেলোয়াড়দের উপর ভরসা রেখেও জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। তাদের এই নৈপুণ্য দলটিকে বিপিএলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।