ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

খলিফা আবু বকরের ইরাক জয়ের পরিকল্পনা

## ইসলামের বিজয়াভিযান: খলিফা আবু বকরের ইরাক জয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

ভূমিকা:

মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টিকারী সকল শক্তিকে প্রতিহত করা। ইসলামের মূল সুরও তাই। এই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে আল্লাহর রাসুল (সা.) নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনায়ক ও গোত্রপ্রধানদের কাছে তাওহিদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁর বাণী তুলে ধরেছেন। জাহিলি প্রথা, আত্মিক ও ভৌত সকল বাধা দূর করতে বিভিন্ন দিকে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেছেন, সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নীতি ছিল স্পষ্ট: হয় ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করো, নতুবা জিজিয়া কর প্রদান করো, অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এই শিক্ষাই খেলাফত রাষ্ট্রের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর আনা দ্বীনকে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি দিকে দিকে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত এই যুদ্ধাভিযানের রূপরেখা মুসলিম উম্মাহর জন্য জাগতিক, মানসিক ও আত্মিক শক্তির এক অমূল্য ভান্ডার তৈরি করেছিল।

খলিফার ইরাক বিজয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা:

আরবে ধর্মদ্রোহিতার অবসান এবং বিদ্রোহী গোত্রগুলোকে দমনের পর খলিফা আবু বকর (রা.) ইসলাম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ইরাক। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি একাধিক সুসংহত বাহিনী প্রস্তুত করেন।

১. খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বাধীন বাহিনী:

খালিদ (রা.) তখন ইয়ামামায় মুসাইলামার হানিফা গোত্রের বাহিনীকে পরাজিত করে সবেমাত্র ফিরেছেন। খলিফা তাঁর কাছে একটি চিঠি পাঠান এবং অবিলম্বে তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে ইরাকে যাত্রা করার নির্দেশ দেন। উবুল্লাহ শহরকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করে অভিযান শুরু করার আদেশ দেওয়া হয়।

খলিফা সেনাপতি খালিদ (রা.)-কে বিশেষ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁকে বলা হয়, তিনি যেন উচ্চভূমি দিয়ে ইরাকে প্রবেশ করেন, স্থানীয় জনগণের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখেন এবং তাদের ইসলামের দাওয়াত দেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলে তাঁদের মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি তাঁরা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাঁদের জিজিয়া কর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি এতেও তাঁরা রাজি না হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। একবার ধর্মত্যাগকারী ব্যক্তিকে পুনরায় বিশ্বাস করা যাবে না এবং তার থেকে কোনো প্রকার সাহায্য নেওয়া যাবে না। পথে যে কোনো মুসলিম সেনাদলের দেখা পেলে তাদের নিজের বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

২. ইয়াজিদ ইবনে গানামের নেতৃত্বাধীন বাহিনী:

হিজাজ ও নাবাজের (বসরা ও মক্কার মধ্যবর্তী একটি শহর) মাঝামাঝি স্থানে অবস্থানরত ইয়াজিদ ইবনে গানামকে খলিফা আবু বকর (রা.) ইরাক অভিযানে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁকে মুসাইখ থেকে অভিযান শুরু করে ইরাকের উচ্চভূমি দিয়ে খালিদ (রা.)-এর বাহিনীর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে যেতে বলা হয়।

খলিফা আরও নির্দেশ দেন যে, যারা ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের অনুমতি দেওয়া হবে। কোনো অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। এই বাহিনীকেও বলা হয়, তারা যেন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হীরার দিকে অগ্রসর হয়। যে আগে পৌঁছাবে, সে সেনাদলের নেতৃত্ব দেবে। হীরার সমবেত হয়ে তারা পারস্যের সীমান্ত প্রহরী ও সামরিক চৌকিগুলো ভেঙে দেবে এবং মুসলিমদের ওপর পেছন থেকে আক্রমণের পথ রুদ্ধ করবে। এরপর একজন হীরায় অবস্থান করে মুসলিমদের পাহারায় থাকবে, অন্যজন পারসিকদের শক্তি-গৌরবের কেন্দ্র মাদায়েনে প্রবল আক্রমণ চালাবে।

৩. মুসান্না ইবনে হারিসার উদ্যোগ এবং খলিফার সহায়তা:

মুসান্না ইবনে হারিসা ইতিমধ্যেই খলিফার দরবারে উপস্থিত হয়ে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি নিজের গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব প্রার্থনা করেন এবং খলিফা তাঁকে ইরাক অভিযানের দায়িত্ব প্রদান করেন। মুসান্না (রা.) ইরাকে গিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।

এক পর্যায়ে তিনি ভাই মাসউদ ইবনে হারিসাকে খলিফার কাছে পাঠান সাহায্য চেয়ে। খলিফা মুসান্না (রা.)-কে জানান যে, তিনি খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে ইরাকে পাঠাচ্ছেন। মুসান্না (রা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তিনি তাঁর গোত্র ও সৈন্যদের নিয়ে খালিদ (রা.)-কে অভ্যর্থনা জানান, তাঁকে সহযোগিতা করেন, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন, তাঁর কোনো নির্দেশ অমান্য না করেন এবং তাঁর মতের বিরোধিতা না করেন। যতক্ষণ খালিদ (রা.) তাঁর সাথে থাকবেন, তিনিই আমির থাকবেন। যদি তিনি অন্য কোথাও চলে যান, তবে মুসান্না (রা.) তাঁর পূর্বের দায়িত্বে বহাল হবেন।

মুসান্নার গোত্রের মাজউর ইবন আদী আনুগত্য অস্বীকার করে খলিফার কাছে পত্র লিখে নিজের বীরত্ব, অশ্বচালনার দক্ষতা ও স্থানীয় জনপদ সম্পর্কে জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে সাওয়াদের দায়িত্ব প্রার্থনা করেন। মুসান্না (রা.) খলিফাকে বিষয়টি অবহিত করে জানান যে, মাজউর অল্পসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে তাঁর বিরোধিতা করছে এবং খলিফার সিদ্ধান্ত কামনা করেন।

উত্তরে খলিফা মাজউরকে নির্দেশ দেন যেন সে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের সাথে যুক্ত হয়ে তাঁর অধীনে অবস্থান করে। একই সাথে তিনি মুসান্না (রা.)-কেও লিখে জানান যে, মাজউরকে খালিদের সঙ্গেই থাকতে বলা হয়েছে এবং খালিদ ইরাক ত্যাগ না করা পর্যন্ত মুসান্না (রা.)-কেও নিজ অবস্থানে অবিচল থাকতে হবে।

(বাকি অংশ পরের সংখ্যায়)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, ইরানের পাল্টা জবাবের ইঙ্গিত

খলিফা আবু বকরের ইরাক জয়ের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

## ইসলামের বিজয়াভিযান: খলিফা আবু বকরের ইরাক জয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

ভূমিকা:

মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টিকারী সকল শক্তিকে প্রতিহত করা। ইসলামের মূল সুরও তাই। এই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে আল্লাহর রাসুল (সা.) নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রনায়ক ও গোত্রপ্রধানদের কাছে তাওহিদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁর বাণী তুলে ধরেছেন। জাহিলি প্রথা, আত্মিক ও ভৌত সকল বাধা দূর করতে বিভিন্ন দিকে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেছেন, সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নীতি ছিল স্পষ্ট: হয় ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করো, নতুবা জিজিয়া কর প্রদান করো, অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এই শিক্ষাই খেলাফত রাষ্ট্রের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর আনা দ্বীনকে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি দিকে দিকে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত এই যুদ্ধাভিযানের রূপরেখা মুসলিম উম্মাহর জন্য জাগতিক, মানসিক ও আত্মিক শক্তির এক অমূল্য ভান্ডার তৈরি করেছিল।

খলিফার ইরাক বিজয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা:

আরবে ধর্মদ্রোহিতার অবসান এবং বিদ্রোহী গোত্রগুলোকে দমনের পর খলিফা আবু বকর (রা.) ইসলাম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ইরাক। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি একাধিক সুসংহত বাহিনী প্রস্তুত করেন।

১. খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বাধীন বাহিনী:

খালিদ (রা.) তখন ইয়ামামায় মুসাইলামার হানিফা গোত্রের বাহিনীকে পরাজিত করে সবেমাত্র ফিরেছেন। খলিফা তাঁর কাছে একটি চিঠি পাঠান এবং অবিলম্বে তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে ইরাকে যাত্রা করার নির্দেশ দেন। উবুল্লাহ শহরকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করে অভিযান শুরু করার আদেশ দেওয়া হয়।

খলিফা সেনাপতি খালিদ (রা.)-কে বিশেষ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁকে বলা হয়, তিনি যেন উচ্চভূমি দিয়ে ইরাকে প্রবেশ করেন, স্থানীয় জনগণের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখেন এবং তাদের ইসলামের দাওয়াত দেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলে তাঁদের মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি তাঁরা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাঁদের জিজিয়া কর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি এতেও তাঁরা রাজি না হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। একবার ধর্মত্যাগকারী ব্যক্তিকে পুনরায় বিশ্বাস করা যাবে না এবং তার থেকে কোনো প্রকার সাহায্য নেওয়া যাবে না। পথে যে কোনো মুসলিম সেনাদলের দেখা পেলে তাদের নিজের বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

২. ইয়াজিদ ইবনে গানামের নেতৃত্বাধীন বাহিনী:

হিজাজ ও নাবাজের (বসরা ও মক্কার মধ্যবর্তী একটি শহর) মাঝামাঝি স্থানে অবস্থানরত ইয়াজিদ ইবনে গানামকে খলিফা আবু বকর (রা.) ইরাক অভিযানে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁকে মুসাইখ থেকে অভিযান শুরু করে ইরাকের উচ্চভূমি দিয়ে খালিদ (রা.)-এর বাহিনীর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে যেতে বলা হয়।

খলিফা আরও নির্দেশ দেন যে, যারা ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের অনুমতি দেওয়া হবে। কোনো অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। এই বাহিনীকেও বলা হয়, তারা যেন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হীরার দিকে অগ্রসর হয়। যে আগে পৌঁছাবে, সে সেনাদলের নেতৃত্ব দেবে। হীরার সমবেত হয়ে তারা পারস্যের সীমান্ত প্রহরী ও সামরিক চৌকিগুলো ভেঙে দেবে এবং মুসলিমদের ওপর পেছন থেকে আক্রমণের পথ রুদ্ধ করবে। এরপর একজন হীরায় অবস্থান করে মুসলিমদের পাহারায় থাকবে, অন্যজন পারসিকদের শক্তি-গৌরবের কেন্দ্র মাদায়েনে প্রবল আক্রমণ চালাবে।

৩. মুসান্না ইবনে হারিসার উদ্যোগ এবং খলিফার সহায়তা:

মুসান্না ইবনে হারিসা ইতিমধ্যেই খলিফার দরবারে উপস্থিত হয়ে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি নিজের গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব প্রার্থনা করেন এবং খলিফা তাঁকে ইরাক অভিযানের দায়িত্ব প্রদান করেন। মুসান্না (রা.) ইরাকে গিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।

এক পর্যায়ে তিনি ভাই মাসউদ ইবনে হারিসাকে খলিফার কাছে পাঠান সাহায্য চেয়ে। খলিফা মুসান্না (রা.)-কে জানান যে, তিনি খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে ইরাকে পাঠাচ্ছেন। মুসান্না (রা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তিনি তাঁর গোত্র ও সৈন্যদের নিয়ে খালিদ (রা.)-কে অভ্যর্থনা জানান, তাঁকে সহযোগিতা করেন, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন, তাঁর কোনো নির্দেশ অমান্য না করেন এবং তাঁর মতের বিরোধিতা না করেন। যতক্ষণ খালিদ (রা.) তাঁর সাথে থাকবেন, তিনিই আমির থাকবেন। যদি তিনি অন্য কোথাও চলে যান, তবে মুসান্না (রা.) তাঁর পূর্বের দায়িত্বে বহাল হবেন।

মুসান্নার গোত্রের মাজউর ইবন আদী আনুগত্য অস্বীকার করে খলিফার কাছে পত্র লিখে নিজের বীরত্ব, অশ্বচালনার দক্ষতা ও স্থানীয় জনপদ সম্পর্কে জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে সাওয়াদের দায়িত্ব প্রার্থনা করেন। মুসান্না (রা.) খলিফাকে বিষয়টি অবহিত করে জানান যে, মাজউর অল্পসংখ্যক সঙ্গী নিয়ে তাঁর বিরোধিতা করছে এবং খলিফার সিদ্ধান্ত কামনা করেন।

উত্তরে খলিফা মাজউরকে নির্দেশ দেন যেন সে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের সাথে যুক্ত হয়ে তাঁর অধীনে অবস্থান করে। একই সাথে তিনি মুসান্না (রা.)-কেও লিখে জানান যে, মাজউরকে খালিদের সঙ্গেই থাকতে বলা হয়েছে এবং খালিদ ইরাক ত্যাগ না করা পর্যন্ত মুসান্না (রা.)-কেও নিজ অবস্থানে অবিচল থাকতে হবে।

(বাকি অংশ পরের সংখ্যায়)