প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল মন্ত্রণালয়কে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কর্মপরিকল্পনায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং জনগণের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। একইসাথে, মন্ত্রণালয়গুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার একটি বৃহত্তর ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের ছয় মাসের লক্ষ্য, বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষাঙ্গনের সামগ্রিক পরিবেশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক ভিশনের আলোকে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং তা আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সাত কলেজ ইস্যু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি এখন ‘মীমাংসিত’। সংশ্লিষ্ট সকলেই এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে, কোনো পরিবর্তন হুট করে আনা হবে না। স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন বা সংস্কার আনা হবে।
ভিসি নিয়োগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগপত্র প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপাচার্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর অস্থায়ীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অফিস হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা ‘গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস’ অনুসরণ করার ব্যাপারে সরকার আগ্রহী। এত বড় ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সর্বোত্তম পদ্ধতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত যেন শিক্ষাঙ্গন, দেশ ও জাতির জন্য সর্বোত্তম হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘কঠোর নজর’ রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম, সময় ব্যবস্থাপনা এবং শ্রেণি-ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























