ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পরিবেশমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদল

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোর নিয়ম মেনে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর স্থলে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন। শনিবার (তারিখ উল্লেখ না করে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাংকিং খাতের সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এর আগে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর পর ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এসেছিলেন। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের শুরু থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর তিনি উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালও ২০০৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে সুপরিচিত। এছাড়াও তিনি গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবং ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার বাংলাদেশের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ২০০৯ সালে একই প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে যুক্তরাজ্যের অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। তাঁর সময়ে ব্যাংকটিকে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ইউসিবি-এর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই আলোচনা আর অগ্রসর হয়নি। সম্প্রতি, ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকতে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। সে সময় ব্যাংকটির পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের হাতে। এরপরই পুরোনো উদ্যোক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকের হাল ধরেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান আবদুস সালামের

পরিবেশমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদল

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোর নিয়ম মেনে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর স্থলে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন। শনিবার (তারিখ উল্লেখ না করে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাংকিং খাতের সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এর আগে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর পর ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এসেছিলেন। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের শুরু থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর তিনি উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালও ২০০৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে সুপরিচিত। এছাড়াও তিনি গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবং ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার বাংলাদেশের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ২০০৯ সালে একই প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে যুক্তরাজ্যের অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। তাঁর সময়ে ব্যাংকটিকে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ইউসিবি-এর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই আলোচনা আর অগ্রসর হয়নি। সম্প্রতি, ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকতে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। সে সময় ব্যাংকটির পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের হাতে। এরপরই পুরোনো উদ্যোক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকের হাল ধরেন।