ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কৃষির সমৃদ্ধিই জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি: মন্ত্রী

দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিখাতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর মাঠ ও খামারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে কৃষির বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড)-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খানের উদাহরণ টেনে বলেন, ড. খান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি দেখাতেন। সেই সময় থেকেই কৃষির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে তাঁর মনে গভীর আগ্রহ জন্মায়।

মন্ত্রী জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। বর্তমানে কৃষকদের সঠিক ও সমন্বিত তথ্যের অভাব রয়েছে। এই কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে, যা সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে। তিনি পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ঘাস উৎপাদন সত্ত্বেও কেন পশুখাদ্যের দাম বেশি, তা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। এর ফলে কৃষক ও খামারিরা ন্যায্য দামে পশুখাদ্য পাবেন এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।

কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি কার্ড চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষকের দোরগোড়ায় প্রাণিসম্পদ সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে মোট ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) কেনা হয়েছে। এগুলো দেশের প্রায় সব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রাণী-চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরাও দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া, লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল (এলএফএফএস), প্রশিক্ষণ, টিকাদান, রোগ নজরদারি, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারি প্রোফাইলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে খামারিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩টি জেলা শহরে আধুনিকমানের জেলা কসাইখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নিরাপদ মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। এসময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান আবদুস সালামের

কৃষির সমৃদ্ধিই জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি: মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিখাতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর মাঠ ও খামারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে কৃষির বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড)-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খানের উদাহরণ টেনে বলেন, ড. খান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি দেখাতেন। সেই সময় থেকেই কৃষির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে তাঁর মনে গভীর আগ্রহ জন্মায়।

মন্ত্রী জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। বর্তমানে কৃষকদের সঠিক ও সমন্বিত তথ্যের অভাব রয়েছে। এই কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে, যা সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে। তিনি পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ঘাস উৎপাদন সত্ত্বেও কেন পশুখাদ্যের দাম বেশি, তা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। এর ফলে কৃষক ও খামারিরা ন্যায্য দামে পশুখাদ্য পাবেন এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।

কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি কার্ড চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষকের দোরগোড়ায় প্রাণিসম্পদ সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে মোট ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) কেনা হয়েছে। এগুলো দেশের প্রায় সব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রাণী-চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরাও দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া, লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল (এলএফএফএস), প্রশিক্ষণ, টিকাদান, রোগ নজরদারি, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারি প্রোফাইলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে খামারিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩টি জেলা শহরে আধুনিকমানের জেলা কসাইখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নিরাপদ মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। এসময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।