ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

হজযাত্রী পরিবহন শুরু ১৮ এপ্রিল, বিমানের ভাড়া কমেছে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র হজ পালনের জন্য আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব উড়োজাহাজ, বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ব্যবহার করে হজযাত্রী পরিবহন করবে। এই বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৯ হাজার ২০০ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে, যা মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক। বাকি হজযাত্রী পরিবহন করবে সাউদিয়া এয়ারলাইনস।

প্রি-হজ ফ্লাইট আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে এবং তা শেষ হবে ৩০ জুন। হজযাত্রীরা ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে বিমানে যাত্রা করতে পারবেন। সূত্রমতে, হজ ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে কিছু আন্তর্জাতিক রুটের সময়সূচী পরিবর্তন করা হচ্ছে, তবে হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান লাভজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, ঢাকা-জেদ্দা রুটে হজযাত্রীর পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীও পরিবহন করা হবে। মোট ফ্লাইটের মাত্র ৫ শতাংশ ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট হিসেবে পরিচালিত হবে। ২০২৬ সালের জন্য হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমানো হয়েছে।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি সরকারের নির্দেশনা, হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হজ এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সিকে মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে এবং প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০-৫০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠাতে হবে। প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না।

এ বছর সরকারি মাধ্যমে তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে: হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ এবং হজ প্যাকেজ-৩।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ): এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের সর্বোচ্চ ৭০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ পাঁচজনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

হজ প্যাকেজ-২: এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের ১.২ থেকে ১.৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা।

হজ প্যাকেজ-১ ও ২-এ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে মক্কা ও মদিনায় দুই ও তিন সিটের রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল সাধারণত ৩৫ থেকে ৪৭ দিন হবে। তবে শর্ট প্যাকেজে সৌদি আরবে অবস্থানকাল ২২ থেকে ৩০ দিন হবে।

হজ প্যাকেজ-৩: সাশ্রয়ী এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের আবাসন হবে মক্কায় আজিজিয়া এলাকায় এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে। এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-৫-এ। হারাম শরিফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যাতায়াতের জন্য এসি বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে খাওয়া ও কোরবানিসহ বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকা। সাধারণ প্যাকেজে হজ পালনে ব্যয় হবে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

হজযাত্রী পরিবহন শুরু ১৮ এপ্রিল, বিমানের ভাড়া কমেছে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

পবিত্র হজ পালনের জন্য আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব উড়োজাহাজ, বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ব্যবহার করে হজযাত্রী পরিবহন করবে। এই বছর মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৯ হাজার ২০০ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে, যা মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক। বাকি হজযাত্রী পরিবহন করবে সাউদিয়া এয়ারলাইনস।

প্রি-হজ ফ্লাইট আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে এবং তা শেষ হবে ৩০ জুন। হজযাত্রীরা ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে বিমানে যাত্রা করতে পারবেন। সূত্রমতে, হজ ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে কিছু আন্তর্জাতিক রুটের সময়সূচী পরিবর্তন করা হচ্ছে, তবে হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান লাভজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, ঢাকা-জেদ্দা রুটে হজযাত্রীর পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীও পরিবহন করা হবে। মোট ফ্লাইটের মাত্র ৫ শতাংশ ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট হিসেবে পরিচালিত হবে। ২০২৬ সালের জন্য হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ১২ হাজার ৯৯০ টাকা কমানো হয়েছে।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি সরকারের নির্দেশনা, হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হজ এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সিকে মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে এবং প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০-৫০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠাতে হবে। প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না।

এ বছর সরকারি মাধ্যমে তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে: হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ এবং হজ প্যাকেজ-৩।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ): এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের সর্বোচ্চ ৭০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ পাঁচজনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

হজ প্যাকেজ-২: এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের ১.২ থেকে ১.৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া বা সেন্ট্রাল এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-২-এ। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা।

হজ প্যাকেজ-১ ও ২-এ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে মক্কা ও মদিনায় দুই ও তিন সিটের রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল সাধারণত ৩৫ থেকে ৪৭ দিন হবে। তবে শর্ট প্যাকেজে সৌদি আরবে অবস্থানকাল ২২ থেকে ৩০ দিন হবে।

হজ প্যাকেজ-৩: সাশ্রয়ী এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের আবাসন হবে মক্কায় আজিজিয়া এলাকায় এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে। এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-৫-এ। হারাম শরিফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যাতায়াতের জন্য এসি বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এই প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে খাওয়া ও কোরবানিসহ বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকা। সাধারণ প্যাকেজে হজ পালনে ব্যয় হবে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।