ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সব প্রতিষ্ঠান দুই দল ভাগ করে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি স্বৈরতান্ত্রিক নির্বাচন কমিশনে পরিণত হয়েছে। এই মেরুদণ্ডহীন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলো ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে গিয়ে ঠিক করে দিচ্ছে কোন উপদেষ্টা থাকতে পারবেন আর কে পারবেন না। এভাবেই বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুটি দল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা জেলার সমন্বয় সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই তরুণ নেতা জানান, তারা ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যই অন্তর্বর্তী সরকারকে এনেছিলেন। কিন্তু এখন দেখছেন, সরকার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছে নতজানু হয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ভাগাভাগিতেও সহায়তা করছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যাচ্ছি। আমরা ২০২৪, ২০১৮ ও ২০১৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচন চাই না। কিন্তু যেভাবে সব চলছে, তাতে মনে হচ্ছে জাতি আরেকটি ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচনই উপহার পাবে। আমরা দেখছি, একটি রাজনৈতিক দল তাদের দখল করা ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল স্কুল কমিটিগুলো দখল করেছে। সভাপতি-সেক্রেটারি পদও তাদের দখলে। শিক্ষকরা তাদের কাছে জিম্মি। আগামী নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের জন্য তাদের এখন থেকেই সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

এনসিপিকে সংখ্যা দিয়ে না মাপার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেনি। আমরা আওয়ামী লীগকেও লাখ লাখ নেতাকর্মীর বড়াই করতে শুনতাম। ছাত্রলীগ নাকি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন ছিল, এখন টর্চলাইট দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। এক জায়গায় বলে ‘জয়’ আবার দুই মাইল দূরে গিয়ে বলে ‘বাংলা’। নিজেরা দৌড়ের ওপর থাকে, ব্যানারও দৌড়ের ওপর থাকে। ব্যানার ধরার চারজন লোকও নেই। একজন ব্যানার নিয়ে দৌড়ায় আর বলে— হাসিনা তোমার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। এই লাখ লাখ নেতাকর্মী কোনো কাজে আসেনি। ন্যায্যতার পক্ষে যখন একজনও ঘুরে দাঁড়ায়, তখন সারা বাংলাদেশ তাকে সমর্থন দেয়।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের আরেকজন ব্যক্তি আছেন, যিনি জেনারেলদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে ব্রিগেডিয়ার আজমির কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন। উনি ক্যান্টনমেন্টে বসে ষড়যন্ত্র করছেন— কাকে নির্বাচনে জেতাবেন আর কাকে হারাবেন। আমরা বলতে চাই, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে, তাদের কলঙ্কমুক্ত হওয়ার একটা সুযোগ এসেছে। আবার যদি ক্যান্টনমেন্টে বসে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়, আমাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের ওপর ট্যাংক চালিয়ে দেবেন, গুলি করবেন? আমরা আলিফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদের উত্তরসূরী। আমাদের ওপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দিলেও আমরা রাস্তা থেকে সরবো না।’

এনসিপির এই নেতা জানান, তারা একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতা ও প্রশাসন ভাগাভাগি বন্ধ করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের সংগঠিত হতে হবে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রশাসন বা পুলিশ সহায়তা করছে না। মামলা বা অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা আমলে নিচ্ছে না। আপনি যদি মনে করেন প্রশাসন সহায়তা করলে আপনার রাজনীতি এগোবে, না হলে এগোবে না, তবে আপনি ভুল রাজনীতি করছেন। আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করতে হবে। অর্থায়ন আসবে আপনার নিজের পকেট থেকে। আপনারা অনেকেই হয়তো ভাবছেন দল ক্ষমতায় যাবে এবং আমরা ক্ষমতার অংশীদার হবো। তাহলে আপনারা ভুল পথে আছেন। যাদের এই চিন্তা আছে, তারা এখনই এনসিপি ত্যাগ করে অন্য দলে চলে যেতে পারেন।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, তারা একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ উপহার দিতে চান এবং সেই পথেই তাদের যাত্রা চলতে থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একের পর এক লীগ নেতাদের জামিন

সব প্রতিষ্ঠান দুই দল ভাগ করে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি স্বৈরতান্ত্রিক নির্বাচন কমিশনে পরিণত হয়েছে। এই মেরুদণ্ডহীন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলো ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে গিয়ে ঠিক করে দিচ্ছে কোন উপদেষ্টা থাকতে পারবেন আর কে পারবেন না। এভাবেই বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুটি দল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা জেলার সমন্বয় সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই তরুণ নেতা জানান, তারা ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যই অন্তর্বর্তী সরকারকে এনেছিলেন। কিন্তু এখন দেখছেন, সরকার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছে নতজানু হয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ভাগাভাগিতেও সহায়তা করছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যাচ্ছি। আমরা ২০২৪, ২০১৮ ও ২০১৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচন চাই না। কিন্তু যেভাবে সব চলছে, তাতে মনে হচ্ছে জাতি আরেকটি ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচনই উপহার পাবে। আমরা দেখছি, একটি রাজনৈতিক দল তাদের দখল করা ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল স্কুল কমিটিগুলো দখল করেছে। সভাপতি-সেক্রেটারি পদও তাদের দখলে। শিক্ষকরা তাদের কাছে জিম্মি। আগামী নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের জন্য তাদের এখন থেকেই সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

এনসিপিকে সংখ্যা দিয়ে না মাপার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেনি। আমরা আওয়ামী লীগকেও লাখ লাখ নেতাকর্মীর বড়াই করতে শুনতাম। ছাত্রলীগ নাকি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন ছিল, এখন টর্চলাইট দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। এক জায়গায় বলে ‘জয়’ আবার দুই মাইল দূরে গিয়ে বলে ‘বাংলা’। নিজেরা দৌড়ের ওপর থাকে, ব্যানারও দৌড়ের ওপর থাকে। ব্যানার ধরার চারজন লোকও নেই। একজন ব্যানার নিয়ে দৌড়ায় আর বলে— হাসিনা তোমার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। এই লাখ লাখ নেতাকর্মী কোনো কাজে আসেনি। ন্যায্যতার পক্ষে যখন একজনও ঘুরে দাঁড়ায়, তখন সারা বাংলাদেশ তাকে সমর্থন দেয়।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের আরেকজন ব্যক্তি আছেন, যিনি জেনারেলদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে ব্রিগেডিয়ার আজমির কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন। উনি ক্যান্টনমেন্টে বসে ষড়যন্ত্র করছেন— কাকে নির্বাচনে জেতাবেন আর কাকে হারাবেন। আমরা বলতে চাই, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে, তাদের কলঙ্কমুক্ত হওয়ার একটা সুযোগ এসেছে। আবার যদি ক্যান্টনমেন্টে বসে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়, আমাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের ওপর ট্যাংক চালিয়ে দেবেন, গুলি করবেন? আমরা আলিফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদের উত্তরসূরী। আমাদের ওপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দিলেও আমরা রাস্তা থেকে সরবো না।’

এনসিপির এই নেতা জানান, তারা একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতা ও প্রশাসন ভাগাভাগি বন্ধ করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের সংগঠিত হতে হবে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রশাসন বা পুলিশ সহায়তা করছে না। মামলা বা অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা আমলে নিচ্ছে না। আপনি যদি মনে করেন প্রশাসন সহায়তা করলে আপনার রাজনীতি এগোবে, না হলে এগোবে না, তবে আপনি ভুল রাজনীতি করছেন। আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করতে হবে। অর্থায়ন আসবে আপনার নিজের পকেট থেকে। আপনারা অনেকেই হয়তো ভাবছেন দল ক্ষমতায় যাবে এবং আমরা ক্ষমতার অংশীদার হবো। তাহলে আপনারা ভুল পথে আছেন। যাদের এই চিন্তা আছে, তারা এখনই এনসিপি ত্যাগ করে অন্য দলে চলে যেতে পারেন।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, তারা একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ উপহার দিতে চান এবং সেই পথেই তাদের যাত্রা চলতে থাকবে।