পাকিস্তান ও চীনের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন আরব বিশ্বের সামরিক বাজারে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। সম্প্রতি সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তির খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদানের জন্য এই চুক্তিটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক পদচারণা আরব বিশ্বে তাদের প্রভাব ও সক্ষমতার নতুন জানান দিচ্ছে।
এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (SMDA)। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার পর রিয়াদ তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত এফ-৩৫ জেটের ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু করলেও, একই সঙ্গে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডারের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তানের এই যুদ্ধবিমানগুলো কেবল সাশ্রয়ী নয়, বরং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পাকিস্তানি ও চীনা জেটের সাফল্য এই বিমানের আন্তর্জাতিক চাহিদা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরব ছাড়াও ইরাক, লিবিয়া এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলো পাকিস্তানের এই সামরিক সরঞ্জামের গ্রাহক তালিকায় রয়েছে। তবে এই বিশাল প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের পথে কিছু ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, লিবিয়া বা সুদানের মতো দেশগুলোতে যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত রয়েছে, সেখানে উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখে অস্ত্র সরবরাহ করা পাকিস্তানের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়া, চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কারণে এই বিমানগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর তাদের নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে প্রতিরক্ষা রপ্তানি একটি বড় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, যুদ্ধবিমানের ক্রয়াদেশের পরিমাণ এতই বেড়েছে যে পাকিস্তান আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইএমএফ-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ধারণা অনুযায়ী, জেএফ-১৭ বিক্রির মাধ্যমে পাকিস্তান প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিকভাবে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রতিযোগিতার এই যুগে পাকিস্তান নিজেকে একটি কার্যকর ও বিকল্প সামরিক শক্তি হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















