ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’র অভিযোগ: বিএসএমএমইউর নথি জব্দের দাবি ডা. এফ এম সিদ্দিকীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ভুল পদক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসা নথি রাষ্ট্রীয়ভাবে জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, তৎকালীন সময়ে বেগম জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং এর সাথে জড়িত চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।

স্মৃতিচারণ ও অভিযোগ তুলে ধরে ডা. সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড পরবর্তী জটিলতা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। তখন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। ডা. সিদ্দিকী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিএসএমএমইউ থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে দেখা যায়, আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়ানো হতো। লিভারের সমস্যা থাকা রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তাকে এটি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা নির্ণয় করা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় ছিল। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় লিভার ফাংশনের রিপোর্ট খারাপ আসা সত্ত্বেও সরকারি চিকিৎসকরা কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম করাননি কিংবা ওই ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি। ডা. সিদ্দিকীর মতে, এই মেথোট্রেক্সেট ওষুধটিই তার ফ্যাটি লিভারকে দ্রুত সিরোসিসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ‘স্লো পয়জন’ বা ধীরগতির বিষক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি কেবল চিকিৎসা বিভ্রাট নয়, বরং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

বক্তব্যে ডা. এফ এম সিদ্দিকী তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান:
প্রথমত, তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং তাদের অবহেলার দায়ভার নির্ধারণ করা।
দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়ার হাসপাতালে অবস্থানকালীন চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও পেশাদারিত্ব যাচাই করা।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কেন তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তার রহস্য উদ্ঘাটন করা।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএসএমএমইউর তৎকালীন সব চিকিৎসা রেকর্ড দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এই চিকিৎসক। তিনি মনে করেন, এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এর নেপথ্যের কুশীলবদের বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’র অভিযোগ: বিএসএমএমইউর নথি জব্দের দাবি ডা. এফ এম সিদ্দিকীর

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ভুল পদক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসা নথি রাষ্ট্রীয়ভাবে জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, তৎকালীন সময়ে বেগম জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং এর সাথে জড়িত চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।

স্মৃতিচারণ ও অভিযোগ তুলে ধরে ডা. সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড পরবর্তী জটিলতা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। তখন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। ডা. সিদ্দিকী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিএসএমএমইউ থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে দেখা যায়, আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়ানো হতো। লিভারের সমস্যা থাকা রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তাকে এটি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা নির্ণয় করা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় ছিল। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় লিভার ফাংশনের রিপোর্ট খারাপ আসা সত্ত্বেও সরকারি চিকিৎসকরা কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম করাননি কিংবা ওই ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি। ডা. সিদ্দিকীর মতে, এই মেথোট্রেক্সেট ওষুধটিই তার ফ্যাটি লিভারকে দ্রুত সিরোসিসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ‘স্লো পয়জন’ বা ধীরগতির বিষক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি কেবল চিকিৎসা বিভ্রাট নয়, বরং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

বক্তব্যে ডা. এফ এম সিদ্দিকী তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান:
প্রথমত, তৎকালীন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং তাদের অবহেলার দায়ভার নির্ধারণ করা।
দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়ার হাসপাতালে অবস্থানকালীন চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও পেশাদারিত্ব যাচাই করা।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কেন তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তার রহস্য উদ্ঘাটন করা।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএসএমএমইউর তৎকালীন সব চিকিৎসা রেকর্ড দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এই চিকিৎসক। তিনি মনে করেন, এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এর নেপথ্যের কুশীলবদের বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।