আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারলে দেশে ইসলামী শরিয়া আইন প্রবর্তনের উদ্যোগ নেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েনের জেরে জোটগত অবস্থান থেকে সরে এসে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার বিকেলে নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এই অবস্থানের কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মূলত ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই রাজনীতি করছে। আমরা যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে পারি, তবে শরিয়া আইন চালুর চেষ্টা করা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি সেই নিয়ত না রাখি, তবে আমাদের রাজনীতির সার্থকতা থাকে না। সে ক্ষেত্রে সেক্যুলার রাজনীতি করাই শ্রেয় ছিল।”
দেশের প্রচলিত সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সংবিধান ও আইন মানতে বাধ্য। তবে সংবিধানে অনেক সময় জনস্বার্থবিরোধী বা অসংগতিপূর্ণ ধারা থাকে। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনসমর্থন নিয়ে এসব আইন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করব।”
জোটবদ্ধ রাজনীতি থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে দলটির এই মুখপাত্র বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জামায়াত প্রধান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কার্যকর করবেন না—এমন তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। যারা ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে, তাদের এমন অবস্থান আমাদের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন। এর ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জোটের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ধরনের অস্পষ্টতা নিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছে ইসলামী আন্দোলন।
নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে গাজী আতাউর রহমান জানান, সারাদেশে ২৭০টি আসনে দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হলেও ২৬৮টি আসনে তাদের প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত বৈধ রয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, এই ২৬৮টি আসনেই ইসলামী আন্দোলন এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।
ইসলামপন্থি জনতার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে ইসলামের আদর্শ প্রতিফলিত হবে। ইসলামপন্থি সব ভোট যেন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা এককভাবে নির্বাচনের এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছি।”
রিপোর্টারের নাম 

























