জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো জোটগত সমঝোতায় না গিয়ে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। সমঝোতা থেকে সরে আসার পেছনে মূলত প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শিক দূরত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনকে দায়ী করেছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে জোট ত্যাগের পেছনে চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ১১ দলীয় জোটে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমীর অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এককভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার পথে হেঁটেছেন। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে নীতি ও আদর্শের রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াতের একক সিদ্ধান্তের কারণে এই নির্বাচন কোনো বিশেষ ছকে বাঁধা বা ‘পাঁতানো’ কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এমতাবস্থায় ইসলামপন্থী জনতার আবেগের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা সম্ভব নয়।
আদর্শিক বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান তাদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে জামায়াত আমীর শররিয়া আইন প্রতিষ্ঠা না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাকে ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছে দলটি। তারা মনে করছে, যারা প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়, তারাই যদি ইসলামী আদর্শ থেকে সরে গিয়ে প্রচলিত আইনের কথা বলে, তবে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। এর মধ্যে আপিল শেষে বর্তমানে ২৬৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ২৬৮ জন প্রার্থীই নিজ নিজ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে (অথবা দলীয় প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং কোনো অবস্থাতেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। দেশের ইসলামপন্থী ভোটারদের ভোট একক বাক্সে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই তারা এই স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























