ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শুল্ক সুবিধা নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির বৈঠক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, শুল্কহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি অংশ নেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।

আলোচনার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান এই ভার্চুয়াল বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহার কমানোর বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই বিশেষ উদ্যোগের জন্য জামায়াত আমির রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা বা মানবসৃষ্ট তন্তু (ম্যানমেড ফাইবার) ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ বা দ্বিপাক্ষিক সফলতার সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বর্তমান শুল্ক চুক্তিটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করার সুযোগ পায়, তবে তারা এই বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তার দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (ডিএফসি) তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও উঠে আসে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের ইতিবাচক সমর্থনের কথা জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ডিএফসি-র অর্থায়ন বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গতিরঞ্চার করবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শুল্ক সুবিধা নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির বৈঠক

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, শুল্কহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি অংশ নেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।

আলোচনার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান এই ভার্চুয়াল বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহার কমানোর বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই বিশেষ উদ্যোগের জন্য জামায়াত আমির রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা বা মানবসৃষ্ট তন্তু (ম্যানমেড ফাইবার) ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ বা দ্বিপাক্ষিক সফলতার সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বর্তমান শুল্ক চুক্তিটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করার সুযোগ পায়, তবে তারা এই বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তার দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (ডিএফসি) তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও উঠে আসে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের ইতিবাচক সমর্থনের কথা জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ডিএফসি-র অর্থায়ন বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গতিরঞ্চার করবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে।