প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের ‘উন্মুক্ত ব্যবহার’ এবং নির্বাচনী অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও উদ্বেগ জমা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এক বৈঠকে দলটির প্রতিনিধিদল এসব প্রস্তাব তুলে ধরে। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রবাসীদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম না থাকা এবং কিছু স্থানে ব্যালট পেপার নিয়ে কারচুপির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিএনপি মনে করে, কেবল প্রতীক সম্বলিত ব্যালট পেপার বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, তাই প্রবাসে ও দেশের ভেতরে উভয় ক্ষেত্রেই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সংবলিত স্বচ্ছ ব্যালট পেপার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈঠকে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেয় দলটি। বর্তমানে আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটার স্লিপে প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। বিএনপি এই নিয়ম সংশোধন করে ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম, ছবি ও প্রতীক যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজতর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও প্রচারণাকে আচরণবিধির লঙ্ঘন উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কমিশনের ‘নির্বিকার’ ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি সংশোধনের মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার। বিএনপি প্রস্তাব করেছে যে, প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা আলাদা ব্যালট না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সংবলিত সাধারণ ব্যালটই যেন পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























