জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে বড় পরিসরে পথচলা শুরু করলেও সেখানে যোগ না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের মতে, জামায়াতের জোটে ফেরার সম্ভাবনা বর্তমানে অত্যন্ত ক্ষীণ। একইসঙ্গে তারা বিএনপির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাবনাকেও নাকচ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমমনা আরও কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি নির্বাচনি জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে দলটি, যার বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে শুক্রবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও নির্বাচনি মেরুকরণ নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও গণভোটের দাবিতে শুরুতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছিল। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সেই মোর্চা ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’ রূপ নিলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরি হয়। এই মতভেদের জের ধরেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ইসলামী আন্দোলনকে বাদ রেখেই ২৫৩টি আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের জোটে বর্তমানে ১৭৯টি আসন জামায়াত এবং বাকি আসনগুলো এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টিসহ অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য এখনও ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করছেন যে, শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন তাদের সঙ্গে ঐক্যমতে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, জামায়াতের এই আশাবাদের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভিন্ন পথ অবলম্বনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক স্পষ্ট করেছেন যে, জামায়াতের জোটে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সমমনা দলগুলোকে নিয়ে নতুন কোনো জোট গঠন করা হবে কি না, তা আজ শুক্রবার পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।
রিপোর্টারের নাম 























