ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বারবার আশ্বাসের নেপথ্যে কী?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কণ্ঠে ‘১২ ফেব্রুয়ারি’ তারিখটি ততই জোরালো হয়ে উঠছে। গত বুধবারও দুই মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন নির্ধারিত দিনেই হবে, এর এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং দলগুলোর নির্বাচনি তোড়জোড় সত্ত্বেও জনমনে প্রশ্ন জেগেছে কেন প্রধান উপদেষ্টাকে বারবার এই তারিখটি স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে? তবে কি পর্দার আড়ালে কোনো অনিশ্চয়তা কাজ করছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই বারবার আশ্বাসের পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তারা যখনই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, নির্বাচনের পরিবেশ ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারের মতে, এই সংশয় দূর করতেই ড. ইউনূসকে বারবার তারিখটি স্পষ্ট করতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অতি সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের ধারণা, এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো মহল যেন নির্বাচন নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্যই প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করছেন।

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আইনি প্রচেষ্টাও এই শঙ্কার একটি বড় কারণ। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে নির্বাচন স্থগিতের জন্য একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। যদিও এর আগের এ ধরনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন, তবুও আইনি ও রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, সরকারের জন্য এই নির্বাচন একটি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোট নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ততা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ এখনো বিরাজমান। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী তাসলিমা আখতারের মতে, গণতন্ত্রের পথে ফিরতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মানুষ সেদিকে তাকিয়ে আছে। সব মিলিয়ে, প্রধান উপদেষ্টার এই নিরবচ্ছিন্ন আশ্বাস মূলত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর সফর নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বারবার আশ্বাসের নেপথ্যে কী?

আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কণ্ঠে ‘১২ ফেব্রুয়ারি’ তারিখটি ততই জোরালো হয়ে উঠছে। গত বুধবারও দুই মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন নির্ধারিত দিনেই হবে, এর এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং দলগুলোর নির্বাচনি তোড়জোড় সত্ত্বেও জনমনে প্রশ্ন জেগেছে কেন প্রধান উপদেষ্টাকে বারবার এই তারিখটি স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে? তবে কি পর্দার আড়ালে কোনো অনিশ্চয়তা কাজ করছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই বারবার আশ্বাসের পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তারা যখনই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, নির্বাচনের পরিবেশ ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারের মতে, এই সংশয় দূর করতেই ড. ইউনূসকে বারবার তারিখটি স্পষ্ট করতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অতি সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের ধারণা, এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো মহল যেন নির্বাচন নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্যই প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করছেন।

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আইনি প্রচেষ্টাও এই শঙ্কার একটি বড় কারণ। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে নির্বাচন স্থগিতের জন্য একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। যদিও এর আগের এ ধরনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন, তবুও আইনি ও রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, সরকারের জন্য এই নির্বাচন একটি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোট নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ততা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ এখনো বিরাজমান। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী তাসলিমা আখতারের মতে, গণতন্ত্রের পথে ফিরতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলেই মানুষ সেদিকে তাকিয়ে আছে। সব মিলিয়ে, প্রধান উপদেষ্টার এই নিরবচ্ছিন্ন আশ্বাস মূলত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।