ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ন্যায়, সংস্কার ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বকে ড. ইউনূসের শক্তিশালী বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আজ ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ন্যায়, সংস্কার ও বৈশ্বিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে এক শক্তিশালী বার্তা দেন।

ভাষণের শুরুতে জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সকল সদস্য রাষ্ট্রকে অভিনন্দন জানান তিনি। একইসঙ্গে, বহুপাক্ষিকতাকে আরও কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যাতে উন্নয়নশীল দেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তরুণদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি জানান, “জুলাই ডিক্লারেশন”-এর ভিত্তিতে এখন দেশে জবাবদিহিতা, অবাধ নির্বাচন আয়োজন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম চলছে।

মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে যোগ দিয়েছে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতায় কাজ করছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তারা শুধু দেশে নয়, প্রবাসের দেশগুলোতেও সমানভাবে অবদান রাখছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিশ্বকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

একইসঙ্গে, তিনি ইসরায়েলের গাজায় গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রফেসর ইউনূস নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যুব উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ, আন্তর্জাতিক আর্থিক খাত সংস্কার, অর্থপাচার ও সম্পদ পাচার বন্ধ, প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি “তিন-শূন্য পৃথিবী”র স্বপ্ন তুলে ধরেন—শূন্য কার্বন, শূন্য সম্পদ-কেন্দ্রীকরণ এবং শূন্য বেকারত্ব।

ভাষণকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা ও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

ন্যায়, সংস্কার ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বকে ড. ইউনূসের শক্তিশালী বার্তা

আপডেট সময় : ১১:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আজ ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ন্যায়, সংস্কার ও বৈশ্বিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে এক শক্তিশালী বার্তা দেন।

ভাষণের শুরুতে জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সকল সদস্য রাষ্ট্রকে অভিনন্দন জানান তিনি। একইসঙ্গে, বহুপাক্ষিকতাকে আরও কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যাতে উন্নয়নশীল দেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তরুণদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি জানান, “জুলাই ডিক্লারেশন”-এর ভিত্তিতে এখন দেশে জবাবদিহিতা, অবাধ নির্বাচন আয়োজন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম চলছে।

মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে যোগ দিয়েছে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতায় কাজ করছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তারা শুধু দেশে নয়, প্রবাসের দেশগুলোতেও সমানভাবে অবদান রাখছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিশ্বকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

একইসঙ্গে, তিনি ইসরায়েলের গাজায় গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রফেসর ইউনূস নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যুব উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ, আন্তর্জাতিক আর্থিক খাত সংস্কার, অর্থপাচার ও সম্পদ পাচার বন্ধ, প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি “তিন-শূন্য পৃথিবী”র স্বপ্ন তুলে ধরেন—শূন্য কার্বন, শূন্য সম্পদ-কেন্দ্রীকরণ এবং শূন্য বেকারত্ব।

ভাষণকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা ও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।